আজকের দিনেযেদিকে দু-চোখ যায়

পাহাড়ের হাতছানি ও ‘অল্টিটিউড সিকনেস’: মেঘের দেশে সুস্থ থাকার কিছু সহজ উপায়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- এখানে শুধুই মেঘেদের বাস। আর একটু উপরে গেলেই যেন ছুঁয়ে ফেলা যায় চাঁদ-তারা। তবে চারপাশের রুক্ষ পাহাড় আর তীব্র হাওয়ার দাপট মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির রুক্ষ রূপকে। উচ্চতা যত বাড়ে, সবুজের চিহ্ন ততই মিলিয়ে যায়। প্রায় ৩,৫০০ মিটার বা ১১ হাজার ফুট উচ্চতায় উঠলে এমনই এক অন্যরকম প্রাকৃতিক পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়। আর উচ্চতা যদি ৪ হাজার মিটারেরও বেশি হয়, তখন পাতলা বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়াই এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

তবুও এই অপার্থিব সৌন্দর্যের টানেই হাজার হাজার পর্যটক ছুটে যান লাদাখ কিংবা স্পিতি ভ্যালির মতো দুর্গম অঞ্চলে। চলতি বছরেও বহু মানুষ ঘুরতে যাচ্ছেন জান্সকার বা চন্দ্রতালের মতো জায়গায়। কিন্তু এই ধরনের ‘হাই অল্টিটিউড’ বা উচ্চ পর্বতসংকুল জায়গায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে শরীর অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে।

অল্টিটিউড সিকনেস কী ও এর লক্ষণ:

উচ্চতার পরিবেশের সঙ্গে শরীর যদি খাপ খাওয়াতে না পারে, তখনই তৈরি হয় ‘অল্টিটিউড সিকনেস’। তীব্রতা অনুযায়ী একে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

  • মাইল্ড অল্টিটিউড সিকনেস: উচ্চতায় যাওয়ার পর সাধারণত মাথাব্যথা, নাক দিয়ে জল গড়ানো এবং অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিলে তাকে মাইল্ড বা মৃদু অল্টিটিউড সিকনেস বলা হয়।

  • সিভিয়র অল্টিটিউড সিকনেস: যদি অসহ্য মাথার যন্ত্রণার সঙ্গে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং হ্যালুসিনেশন (যা নেই তা দেখা বা অনুভব করা) হতে থাকে, তবে বুঝতে হবে রোগী ‘সিভিয়ার’ বা মারাত্মক অল্টিটিউড সিকনেসে ভুগছেন।

প্রাথমিক সতকর্তা ও করণীয়:

পাহাড়ে ওঠার সময় তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে উপরে উঠলে এবং ক্রমাগত জল খেলে অল্টিটিউড সিকনেস অনেকটাই এড়ানো যায়। তবে একবার যদি অসহ্য মাথার যন্ত্রণা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়, তবে আর দেরি না করে রোগীকে দ্রুত কম উচ্চতার জায়গায় নামিয়ে আনা উচিত।

অল্টিটিউড সিকনেস রুখতে জাদুকরী পানীয়: আদা-লেবু-মধুর চা

অতিরিক্ত উচ্চতায় সাধারণ চা বা কফি খেলে শরীর ডিহাইড্রেটেড (জলশূন্য) হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অল্টিটিউড সিকনেস এড়াতে এবং সুস্থ থাকতে সবচেয়ে কার্যকরী ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন উপায় হলো— আদা, লেবু ও মধুর চা

এই বিশেষ পানীয়টি যেভাবে কাজ করে:

  • উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ: বেশি উচ্চতায় অনেকেরই মাথাঘোরা, বমি বমি ভাব বা মাথাব্যথার মতো সমস্যা হয়। এই পানীয়টি এই ধরনের উপসর্গগুলোকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে।

  • হজম ও পেটের সমস্যার সমাধান: আদা হজমপ্রক্রিয়াকে সচল রাখে। ঘুরতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়ার অনিয়মে অনেকেরই পেটের গোলমাল বা বদহজম হয়, যা দূর করতে এই পানীয়টি দারুণ উপযোগী।

  • শরীর গরম রাখা ও ইমিউনিটি বুস্টিং: উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডার প্রকোপও মারাত্মক আকার নেয়। ফলে ঠান্ডা লাগা বা শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার ভয় থাকে। এই আদা-লেবু ও মধুর চা ইমিউনিটি বুস্টার বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং শরীরকে ভেতর থেকে আরাম ও ওষ্ণতা দেয়।

জরুরি সতকর্তা: মনে রাখবেন, আদা-লেবু-মধুর এই পানীয়টি ভ্রমণের সময় আপনাকে সাময়িক স্বস্তি দেবে এবং উপসর্গগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখবে, তবে এটি অল্টিটিউড সিকনেসের কোনো স্থায়ী বা চূড়ান্ত চিকিৎসা নয়। শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ও দ্রুত নিচে নেমে আসাই একমাত্র সমাধান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *