মমতার পক্ষে সওয়াল করলেও অভিষেকের প্রশ্নে ‘নির্বাক’ কল্যাণ! সম্পর্কের ফাটল কি তবে ঢাকা পড়ল না?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: রাজনীতিতে কি চিরস্থায়ী শত্রুতা বা মিত্রতা বলে কিছু হয় না? তৃণমূলের অন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী বনাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নবজোয়ার’ শিবিরের ঠান্ডা লড়াইয়ের ইতিহাস নতুন নয়。 কিন্তু শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টের এজলাসে যা ঘটল, তাতে ফের একবার সামনে চলে এল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেকের পুরোনো মনমালিন্য। ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে আদালত অবমাননার মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করার কথা জানালেও, অভিষেকের নাম উঠতেই কার্যত ‘নিশ্চুপ’ বা নির্বাক থেকে গেলেন কল্যাণ। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি দুই নেতার সম্পর্কের বরফ এখনো গলেনি?
এজলাসে ঠিক কী ঘটেছিল?
বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে আদালতে সওয়াল করবেন。 ঠিক তখনই প্রশ্ন ওঠে— তাহলে অপর অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে কে লড়বেন? এই প্রশ্নের কোনো সোজাসাপটা উত্তর দেননি কল্যাণবাবু। তিনি কিছুটা ইতস্তত বোধ করেন এবং নীরব থাকেন। পরিস্থিতি দেখে আদালত মন্তব্য করে, অভিষেকের পক্ষে কেউ না দাঁড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে রুল জারি করতে হবে।
কেন এই দূরত্ব? নেপথ্যে সেই ‘সই জাল’ মামলা
তৃণমূলের অন্দরের এই সমীকরণ নতুন নয়। ইতিপূর্বে অভিষেকের বিধানসভায় সই জাল সংক্রান্ত একটি মামলা থেকে আইনজীবী হিসেবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। সেই সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত বিস্ফোরক সব মন্তব্য করেছিলেন, যা রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দেয়- “ওর (অভিষেক) জন্য দলটা শেষ হয়ে গেল, তারপরও কী ঔদ্ধত্য! রাত সাড়ে ১২টায় আমার ছেলেকে ফোন করে বলছে জুনিয়রস্য জুনিয়র অয়ন এই মামলায় সওয়াল করবে। এটা শুনে আমি বলে দিয়েছি, আমি অভিষেকের সঙ্গে নেই। ওর ঔদ্ধত্য মেনে নেব না।” শুধু তাই নয়, সরাসরি দলনেত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, “আমি মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয় আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান।”
ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা ও বর্তমান জল্পনা
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চরম হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসরে নেমেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। অত্যন্ত কৌশলী চাল দিয়ে ঘরোয়া কোন্দল ধামাচাপা দিতে অভিষেক বলেছিলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকার রয়েছে কটু কথা বলার। উনি আমাকে ছোট থেকে বড় করেছেন। আমার তাঁর প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই। আমি তাঁকে আগেও সম্মান করতাম, এখনও করি।”
অভিষেকের এই মন্তব্যের পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে দুই নেতার ‘দ্বন্দ্ব’ হয়তো মিটে গেছে। কিন্তু শুক্রবার হাই কোর্টের এজলাসে কল্যাণের এই ভূমিকা এবং ইতস্তত বোধ করার ঘটনা প্রমাণ দিল যে, সম্পর্কের ফাটল হয়তো ওপর ওপর ঢাকা পড়েছিল, কিন্তু তা পুরোপুরি জোড়া লাগেনি। আর এই ঘটনাই এখন নতুন করে রাজনৈতিক মহলে অস্বস্তি বাড়িয়েছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের।
