আজকের দিনেবিশ্ব

​ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের পথে, বড় সংঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়ে জানালেন ট্রাম্প

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, ফ্লোরিডাঃ- মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মধ্যেই এক স্বস্তিদায়ক অথচ কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, যুদ্ধ এখন সমাপ্তির পথে এবং আমেরিকা লক্ষ্য অর্জনের অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। তবে যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিলেও তেহরানকে চরম পরিণতির হুঁশিয়ারি দিতে ভোলেননি তিনি।

​হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এটি (যুদ্ধ) শেষ করার খুব কাছাকাছি।” তবে এই ‘খুব কাছাকাছি’ সময়টা ঠিক কবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন তিনি। সাংবাদিকরা যখন প্রশ্ন করেন যে এক সপ্তাহের মধ্যে কি শান্তির সম্ভাবনা আছে? ট্রাম্পের উত্তর ছিল, “না, তবে শীঘ্রই।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে শত্রু পুরোপুরি পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী পিছু হটবে না।

​বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ট্রাম্প কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি তেল সরবরাহ বন্ধ করার কোনো চেষ্টা করে, তবে তাদের কঠোরতম শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, আমেরিকার নজরে ইরানের এমন কিছু ‘টার্গেট’ বা লক্ষ্যবস্তু রয়েছে যা ধ্বংস করলে তা পুনর্গঠন করতে ইরানের কয়েক দশক সময় লেগে যাবে। ট্রাম্পের মতে, আমেরিকা আপাতত ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো থেকে বিরত আছে। যদি ইরান সহযোগিতা না করে, তবে এই পরিকাঠামো রক্ষা করা হবে না বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

​ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, ইরানের ড্রোন এবং মিসাইল শক্তি এখন পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত। ইরানের নৌবাহিনী কার্যত অস্তিত্বহীন, কারণ তাদের অন্তত ৪৬টি জাহাজ সমুদ্রের গভীরে তলিয়ে দেওয়া হয়েছে। একাধিক ‘সন্ত্রাসী’ নেতাকে খতম করা হয়েছে।

​আগামী দিনে ইরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও মুখ খুলেছেন ট্রাম্প। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনে পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে চায় আমেরিকা। ট্রাম্প বলেন, “আমরা এমন কোনো রাষ্ট্রপতি চাই না, যিনি আমার ইচ্ছামতো কাজ করতে চাইবেন না। আমরা চাই না পাঁচ-দশ বছর পর আবার একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে।” এই বার্তার মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত ইরানে একটি মার্কিন-বান্ধব সরকার গঠনের আকাঙ্ক্ষাই প্রকাশ করেছেন, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *