আজকের দিনেখেলাবিশ্ব

FIFA Worldcup 26 : দু’গোলে পিছিয়ে থেকেও নাটকীয় জয়! মেসির মহাকাব্যে বিশ্বকাপের শেষ আটে আর্জেন্টিনা !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, স্পোর্টস ডেস্ক :- আটলান্টায় মঙ্গলবার যা হল সেটা শুধু ফুটবল ম্যাচ ছিল না, ছিল একটা মহাকাব্য। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা। আর এই কামব্যাকের নায়ক সেই একই মানুষ – লিওনেল মেসি।

ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে ছিল আর্জেন্টিনা। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। একের পর এক আক্রমণ ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন তিনি। ১৫ মিনিটেই সালাহর কর্নার থেকে ইব্রাহিমের দুর্দান্ত হেডারে ১-০ এগিয়ে যায় মিশর।

আর্জেন্টিনার দুঃসময় আরও বাড়ে ৩৪ মিনিটে। পেনাল্টি পেয়েও মিস করেন মেসি। তাঁর শট সরাসরি চলে যায় শোবেরের হাতে। প্রথমার্ধে আলভারেজ, এনজো, ডি মারিয়া কেউই মিশরের রক্ষণ ভাঙতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে আবার ধাক্কা। সালাহর কাটব্যাক থেকে মোস্তাফার গোলে ২-০। এর মাঝে রেফারির সিদ্ধান্তে মিশরের আরও একটা গোল বাতিল হয়। মনে হচ্ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের যাত্রা এখানেই শেষ।

কিন্তু ফুটবল ঈশ্বর তখনও মাঠে ছিলেন। ৭৯ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে নিখুঁত ক্রস বাড়ান মেসি। রোমেরোর হেড জালে। ২-১। আর্জেন্টিনা জেগে ওঠে।

৮৬ মিনিটে আবার সেই মেসি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁ-পায়ের বাঁকানো শট। বল জড়ায় জালে। ২-২। বিশ্বকাপে ২১তম গোল করে মারাদোনাকে টপকে যান তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এটা অষ্টম গোল – টুর্নামেন্ট রেকর্ড।

মনে হচ্ছিল খেলা এক্সট্রা টাইমে যাবে। কিন্তু ৯৩ মিনিটে লওটারো মার্টিনেজের ক্রসে লাফিয়ে হেড করেন এনজো ফার্নান্ডেজ। ৩-২। মাত্র ৩০ মিনিটে ২-০ থেকে ম্যাচ বের করে নেয় আর্জেন্টিনা।

শেষ বাঁশির পর মাঠেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন মেসি। কান্নায় ভেঙে পড়েন। সতীর্থরা এসে জড়িয়ে ধরেন। বোঝাই যাচ্ছিল এই জয়টা তাঁর কাছে কতটা দরকারি ছিল।

ম্যাচের শুরুতে যাকে খলনায়ক মনে হচ্ছিল, শেষে তিনিই মহানায়ক। মেসি আবারও প্রমাণ করলেন – তিনি থাকলে অসম্ভবও সম্ভব। এই কামব্যাক আর্জেন্টিনাকে শুধু কোয়ার্টার ফাইনালেই তোলেনি, গোটা দলকে নতুন আত্মবিশ্বাসও দিল। এবার লক্ষ্য একটাই – দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *