ফাস্টট্যাগ ব্যবহারকারীরা সাবধান! বার্ষিক পাসের নামে পাতা হচ্ছে জালিয়াতদের মরণফাঁদ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লিঃ অনলাইন লেনদেনের যুগে প্রতারণার জাল এবার ফাস্টট্যাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। ফাস্টট্যাগ বার্ষিক পাসের নাম করে সাধারণ মানুষকে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলার ছক কষছে প্রতারকরা। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিক ও গাড়িচালকদের সুরক্ষিত রাখতে জনস্বার্থে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করল ভারতের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বা ‘ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’।
কীভাবে চলছে এই প্রতারণা?
NHAI-এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, একদল সাইবার অপরাধী অবিকল আসল পোর্টালে মতো দেখতে জাল ওয়েবসাইট এবং ভুয়া লিঙ্ক তৈরি করে ফাস্টট্যাগ বার্ষিক পাস বিক্রির বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এমনকি সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন কৌশলের মাধ্যমে এই জাল ওয়েবসাইটগুলোকে সার্চ রেজাল্টের ওপরের দিকে রাখা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ সেগুলোকে আসল ওয়েবসাইট ভেবে সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
প্রতারণার কৌশল:
১. ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া: এই নকল ওয়েবসাইটগুলোতে ঢুকলেই ইউজারদের মোবাইল নম্বর, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যাঙ্কিং তথ্য চাওয়া হচ্ছে। ২. ভুয়ো রশিদ: ইউজাররা পাসের জন্য টাকা দেওয়ার সাথে সাথেই সেই টাকা চলে যাচ্ছে প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে। বিনিময়ে ইউজারদের হাতে একটি ভুয়ো রশিদ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা দেখে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি চট করে বোঝার উপায় থাকছে না।
একমাত্র ভরসা ‘রাজমার্গযাত্রা’ অ্যাপ
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ফাস্টট্যাগ বার্ষিক পাস শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত ‘রাজমার্গযাত্রা’ অ্যাপ থেকেই সংগ্রহ করা সম্ভব। অন্য কোনো থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট বা প্ল্যাটফর্ম থেকে এই পাস বিক্রি করার কোনো অনুমতি কর্তৃপক্ষ দেয়নি। তাই অন্য কোথাও লেনদেন করলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য চুরির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ফাস্টট্যাগ বার্ষিক পাসের সুবিধা কী?
গাড়িচালকদের সুবিধার্থে গত বছরের আগস্ট মাসে এই পাস চালু করা হয়েছিল। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
-
বৈধতা: এই পাসের মেয়াদ থাকে এক বছর।
-
সুবিধা: নিয়মিত যাত্রীদের অতিরিক্ত টোল শুল্ক এড়াতে সাহায্য করে।
-
সীমা: একজন চালক এই পাসের মাধ্যমে সর্বাধিক ২০০টি টোল প্লাজা ব্যবহার করতে পারেন।
প্রশাসনের পরামর্শ
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, যেকোনো লিঙ্ক বা ওয়েবসাইটে ক্লিক করার আগে সেটি আসল কি না যাচাই করে নিন। পাসের জন্য শুধুমাত্র অফিশিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করুন। কোনোভাবে প্রতারিত হলে অবিলম্বে সাইবার ক্রাইম থানায় যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
