দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে উত্তপ্ত দেগঙ্গা!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,দেগঙ্গা: ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই তপ্ত হচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মাটি। সপ্তাহ ঘুরলেই দ্বিতীয় দফার নির্বাচন, আর তার আগেই দেগঙ্গায় বোমা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ছড়িয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। দেগঙ্গার ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবর্ধনপুর এলাকায় এক আইএসএফ নেতার বাড়ির সদর দরজার সামনে থেকে তাজা বোমা উদ্ধার করল পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও আইএসএফ-এর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।
ঠিক কী ঘটেছিল?
দেগঙ্গার আইএসএফ অঞ্চল সম্পাদক মহাম্মদ হাবিবুল রহমানের দাবি, শুক্রবার ভোরে তিনি যখন বাড়ির সদর দরজা খোলেন, তখন দেখেন ঠিক দরজার গোড়াতেই পড়ে রয়েছে দু’টি তাজা বোমা। জনবহুল এলাকায় নেতার বাড়ির সামনে এমনভাবে বোমা পড়ে থাকতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দেগঙ্গা থানার পুলিশ এবং বোমা দু’টি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তির
এই ঘটনায় সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলেছেন হাবিবুল রহমান। তাঁর দাবি, দিনকয়েক আগে পদ্মপুকুর বাজারে আইএসএফ প্রার্থী পিয়ারুল ইসলামের সমর্থনে একটি নির্বাচনী সভা হয়েছিল। সেখানে তিনি শাসকদলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ভাষণ দিয়েছিলেন। হাবিবুলের অভিযোগ:
“তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাই ভয় দেখাতে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছি বলেই আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আমার বাড়িতে একইভাবে বোমা রাখা হলো।”
তৃণমূলের পাল্টা দাবি
আইএসএফ-এর তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। শাসকদলের পাল্টা দাবি, ভোট আবহে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে এবং মানুষের সহানুভূতি পেতে আইএসএফ নিজেই এই ‘নাটক’ সাজিয়েছে। তৃণমূল নেতাদের দাবি, কয়েকদিন আগেই এলাকার একটি জঙ্গল থেকে আইএসএফ-এর মজুত করা বোমা উদ্ধার হয়েছিল। তাই এই ঘটনার পেছনে আইএসএফ-এরই হাত রয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
আতঙ্কে গ্রামবাসীরা
নির্বাচনের মুখে বারবার বোমা উদ্ধারের ঘটনায় গোবর্ধনপুর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে ওই নেতার বাড়ির সামনে বোমা রেখে গেল, তা খতিয়ে দেখছে দেগঙ্গা থানার পুলিশ। এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দেগঙ্গায় তৃণমূল ও আইএসএফ-এর লড়াই এখন তুঙ্গে।
