ভোটবঙ্গে বাইক-নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চরম বিতর্ক! এবার মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ ভোট শুরুর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে রাজ্যে বাইক চলাচলের ওপর নির্বাচন কমিশনের জারি করা নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই শুরু হলো। কমিশনের এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক মামলাকারী। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও এই সংক্রান্ত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
কমিশনের কড়া নির্দেশিকা ও বিতর্ক
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায় যে, ভোটের দু’দিন আগে থেকে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বাইক র্যালি বা মোটরসাইকেল মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে বিতর্কের সূত্রপাত হয় অন্য একটি অংশে, যেখানে বলা হয়েছে:
-
সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো নিষিদ্ধ থাকবে।
-
সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইকের পিছনে কোনো আরোহী বসানো যাবে না।
যদিও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা, স্কুল পড়ুয়াদের যাতায়াত বা পারিবারিক বিশেষ প্রয়োজনে ছাড় দেওয়ার কথা বলেছে কমিশন, তবুও এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে জনমানসে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
হাই কোর্টের হস্তক্ষেপ
মামলাকারীর আইনজীবীর দাবি, কমিশনের এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞার ফলে সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়বেন। বিশেষ করে রাতের বেলা যাতায়াত বা জরুরি প্রয়োজনে বাইক ব্যবহার করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই যুক্তিতেই বিচারপতি কৃষ্ণ রাও-এর এজলাসে মামলা দায়ের করার অনুমতি চাওয়া হয় এবং আদালত তা মঞ্জুর করে।
রাজনৈতিক তরজা ও প্রভাব
কমিশনের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে। বিশেষ করে ডেলিভারি সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার যুবক কর্মহীন হয়ে পড়বেন এই ক’দিন।” ডেলিভারি এজেন্সিগুলোর কাজ মূলত বাইক নির্ভর হওয়ায় এই নির্দেশিকা তাদের বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আগামিকাল প্রথম দফার ভোট
আগামিকাল বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ। তার আগে কমিশনের এই কড়াকড়ি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কতটা কার্যকর হবে না কি জনরোষ তৈরি করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হাই কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে এখন সবার নজর।
