আজকের দিনেতিলোত্তমা

‘জনতার দরবার’-এ মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ বৃদ্ধ, এবার সিজিও-তে ইডির মুখোমুখি ফ্ল্যাট মালিক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ভবানীপুরের এক অসহায় বৃদ্ধের পৈতৃক ভিটে প্রোমোটার চক্রের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার মামলার তদন্তে এবার বড় মোড়। একটি রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত আর্থিক তছরুপের মামলার তদন্তে বুধবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট -এর দপ্তরে হাজিরা দিলেন মেনকা সিং। দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা এই প্রতারণা মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থার এই অ্যাকশনে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

তার ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবারই সিজিও কমপ্লেক্সের গোয়েন্দারা ভবানীপুরের ঘটনাস্থলে গিয়ে নথিপত্র খতিয়ে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মেনকা সিংকে তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

প্রোমোটার চক্রের ফাঁদে ৮১ বছরের বৃদ্ধ

ঘটনার সূত্রপাত ভবানীপুরের বাসিন্দা ৮১ বছর বয়সী প্রবীর মুখোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, নিজের পৈতৃক জমিতে বহুতল আবাসন তৈরির পর সেখানে ফ্ল্যাট পাওয়ার আশায় এক প্রোমোটিং চক্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন ওই প্রবীণ নাগরিক। কিন্তু অভিযোগ, প্রোমোটাররা তাঁকে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া তো দূর অস্ত, উল্টে নানা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে নিজের ঘর থেকেই উচ্ছেদ করে। পৈতৃক ভিটে ও মাথার ওপরের ছাদ হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন ওই বৃদ্ধ।

কোনো উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত সহায়তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হন প্রবীরবাবু। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেত্রের পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং আর্থিক লেনদেনের গরমিল থাকায় তদন্তভার হাতে নেয় ইডি।

কেন ইডির স্ক্যানারে মেনকা সিং?

তদন্তে প্রকাশ, এই জালিয়াতির মূল পান্ডা হলেন প্রোমোটার জয় এস কামদার। অভিযোগ উঠেছে:

  • ফ্ল্যাট হাতবদল: বৃদ্ধ প্রবীর মুখোপাধ্যায়ের জন্য নির্ধারিত ফ্ল্যাটটি তাঁর অজান্তেই মেনকা সিংয়ের কাছে বিক্রি করে দেন প্রোমোটার জয় এস কামদার।

  • রেজিস্ট্রি ছাড়াই লেনদেন: অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে, ফ্ল্যাটটির মোটা অঙ্কের লেনদেন হয়ে গেলেও প্রোমোটার এখনও মেনকা সিংয়ের নামে সেটির আইনি রেজিস্ট্রি করে দেননি।

তদন্তকারীদের অনুমান: ইডি আধিকারিকদের প্রাথমিক ধারণা, এই পুরো ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন জালিয়াতি নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে একটি সুসংগঠিত রিয়েল এস্টেট সিন্ডিকেট ও বিপুল অঙ্কের কালো টাকা সাদা করার খেলা। রেজিস্ট্রি ছাড়া কীভাবে ফ্ল্যাট কেনা হলো এবং এই লেনদেনের টাকা কার কার অ্যাকাউন্টে গেছে, তা জানতেই মেনকা সিংকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য প্রভাবশালী এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের তালিকা তৈরি করছে ইডি। আগামী দিনে প্রোমোটার জয় এস কামদারকেও তলব করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *