আজকের দিনেভারত

সামর্থ্য না থাকলে বিয়ে করবেন না- এলাহাবাদ হাইকোর্ট

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, এলাহাবাদঃ “বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর অভাবের দোহাই দিয়ে স্ত্রী-সন্তানের দায়িত্ব এড়ানো যায় না। যদি কারও খোরপোশ দেওয়ার সামর্থ্য না থাকে, তবে তাঁর বিয়ে না করাই উচিত।”—প্রয়াগরাজের এক দম্পতির খোরপোশ মামলায় অভিযুক্ত স্বামীকে এভাবেই ভর্ৎসনা করল এলাহাবাদ হাই কোর্ট।

মামলার প্রেক্ষাপট

তেজ বাহাদুর মৌর্য নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের জন্য মাসিক ৪ হাজার টাকা খোরপোশ ধার্য করেছিল পরিবার আদালত। কিন্তু সেই টাকা দিতে অস্বীকার করে এলাহাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ওই যুবক। তাঁর যুক্তি ছিল, তিনি অত্যন্ত দরিদ্র এবং মাসিক ৪ হাজার টাকা দেওয়ার মতো আর্থিক অবস্থা তাঁর নেই। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী অন্য ব্যক্তির সঙ্গে সহবাস করছেন, তাই তিনি খোরপোশ পাওয়ার যোগ্য নন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি অতুল শ্রীধরন এবং বিচারপতি বিবেক সারনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি শোনার পর অভিযুক্তের সমস্ত যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়:

  • প্রমাণের অভাব: স্ত্রী যে অন্য সম্পর্কে লিপ্ত, তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন ওই যুবক।

  • ন্যূনতম দায়বদ্ধতা: বর্তমানে মাসে ৪ হাজার টাকা কোনোভাবেই অত্যধিক নয়। আদালত মনে করে, একজন সুস্থ-সবল পুরুষের পক্ষে এই সামান্য অর্থ উপার্জন করা অসম্ভব নয়।

  • আইনি বাধ্যবাধকতা: খোরপোশ দেওয়া কোনো করুণা বা দয়া নয়, এটি স্বামীর আইনি ও নৈতিক কর্তব্য।

“অভাবের দোহাই চলে না”

আদালত এই মামলায় কঠোর ভাষায় জানায়, একজন পুরুষ যখন বিয়ে করেন, তখন তিনি তাঁর সঙ্গীর ভরণপোষণের দায়িত্বও গ্রহণ করেন। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, যদি কোনো ব্যক্তির মনে হয় যে বিচ্ছেদ বা তিক্ততার পরিস্থিতিতে তিনি স্ত্রী-সন্তানকে আর্থিক সহায়তা দিতে পারবেন না, তবে তাঁর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

নির্যাতিতা মহিলা আদালতকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি উচ্চশিক্ষিত নন এবং তাঁর আয়ের কোনো নির্দিষ্ট পথ নেই। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে হাই কোর্ট পরিবার আদালতের রায়ই বহাল রাখে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে নির্ধারিত অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *