আজকের দিনেবাংলার আয়না

Death-Nadia : নদিয়ায় বজ্রাঘাতে মৃত্যু ২, দুই পৃথক এলাকায় প্রাণ হারালেন কৃষক ও গৃহবধূ !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- গতকাল ২৩ শে মে শনিবার সন্ধ্যায় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন নদিয়া জেলার দুই বাসিন্দা। মৃতরা হলেন নাকাশিপাড়ার গোবিপুরের তপন প্রামাণিক, ৫০ এবং একই থানার দুর্গাপুর এলাকার উন্নতি সরকার, ৩২। নাকাশিপাড়া থানা এলাকার দুই পৃথক জায়গায় একই সময়ে ঘটে দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

শনিবার বিকেল থেকে আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে নদিয়া জুড়ে। সন্ধ্যায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি নামে। সেই সময় গোবিপুরের পাটের জমিতে কাজ করছিলেন কৃষক তপন প্রামাণিক। বাড়ি ফেরার পথে আচমকা বজ্রপাতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে বেথুয়াডহরি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তপনের আত্মীয় দীপঙ্কর সরকার জানান, ‘কাকা মাঠে ছিলেন। আবহাওয়া খারাপ দেখে ফিরছিলেন। তখনই বাজ পড়ে।’

প্রায় একই সময়ে দুর্গাপুর এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে পাটকাঠি সরানোর কাজ করছিলেন গৃহবধূ উন্নতি সরকার। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পাটকাঠি যাতে ভিজে না যায়, সেজন্য সেগুলি ঘরে তুলছিলেন উন্নতি। তখনই বাড়ির পাশের নারকেল গাছে বাজ পড়ে আগুন ধরে যায়। বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকেও মৃত বলে জানান। আত্মীয় বিমল মণ্ডল বলেন, ‘হঠাৎ নারকেল গাছে বাজ পড়ল। বৌদি বাইরে ছিল। সঙ্গে সব শেষ।’

বর্ষার মরসুম শুরু হতেই নদিয়া জেলায় বজ্রপাতের ঘটনা বাড়ছে। কৃষিকাজ ও গৃহস্থালির কাজে যুক্ত মানুষজনই মূলত এর শিকার হচ্ছেন। আবহাওয়া দফতর শনিবারও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছিল। তা সত্ত্বেও মাঠে ও খোলা জায়গায় কাজ করার সময় সতর্ক না থাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় পাকা বাড়ির নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং উঁচু গাছ বা ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকা জরুরি।

একই দিনে, নদিয়া জেলার বজ্রাঘাতে দুই জনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া। পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনা ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল গ্রামাঞ্চলে বজ্রপাত নিয়ে সচেতনতার অভাব কতটা। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে মৃতদের পরিবারকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া খারাপ হলে অযথা বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *