আজকের দিনেসুস্থ থাকুন

তরমুজ কেটে ফ্রিজে রাখছেন? ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এড়াতে মানতেই হবে এই ৪ নিয়ম

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- গ্রীষ্মের এই মরসুমে তরমুজের চেয়ে আরামদায়ক ফল আর দুটি নেই। কিন্তু জানেন কি, আপনার একটু অসাবধানতায় এই সাধের তরমুজই হয়ে উঠতে পারে পেটের রোগের কারণ? রাস্তাঘাটের কাটা তরমুজ তো বটেই, এমনকি বাড়িতে কেটে রাখা তরমুজ থেকেও শরীরে ছড়াতে পারে মারাত্মক সংক্রমণ। সঠিক নিয়মে তরমুজ কেটে সংরক্ষণ করুন ।

আসলে তরমুজে জলের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে এবং এতে রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক শর্করা । এই দুইয়ের মিলনে তরমুজ কাটার পর সেখানে খুব দ্রুত ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে শুরু করে। বিশেষ করে গরমকালের আর্দ্র আবহাওয়ায় এই সংক্রমণের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়। ঠিক এই কারণেই চিকিৎসকেরা রাস্তার কাটা ফল খেতে নিষেধ করেন। একইভাবে, বাড়িতেও দীর্ঘক্ষণ কেটে ফেলে রাখা তরমুজ খেলে পেটের সমস্যা বা ফুড পয়জনিং হতে পারে।

কেনা ও কাটার আগের সতর্কতা

সংক্রমণ এড়াতে তরমুজ কেনা থেকে শুরু করে টেবিল পর্যন্ত আনার প্রতিটি ধাপে সতর্ক থাকা জরুরি:

  • কেনার সময় খেয়াল রাখুন: তরমুজ কেনার সময় খোসায় কোনো ফাটল বা কাটা দাগ থাকলে তা একেবারেই কিনবেন না।

  • ভালো করে ধুয়ে নিন: তরমুজ কাটার আগে খোসাটি জল দিয়ে খুব ভালো করে ধুয়ে নেওয়া উচিত। কারণ, খোসায় আটকে থাকা অদৃশ্য জীবাণু কাটার সময়ে ছুরির মাধ্যমে ফলের ভেতরের অংশে মিশে যেতে পারে।

  • ঘরের তাপমাত্রা: গোটা তরমুজ ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন নেই, তা ঘরের সাধারণ তাপমাত্রাতেই ভালো থাকে।

তরমুজ কাটা ও সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম

যেহেতু আস্ত তরমুজ ফ্রিজে রাখা কঠিন, তাই কেটে রাখার ক্ষেত্রে নিচের নিয়মগুলো অবশ্যই মেনে চলুন:

  • হাত ও ছুরির পরিচ্ছন্নতা: ফল কাটার আগে নিজের হাত এবং যে ছুরি বা বঁটি দিয়ে কাটবেন, তা ভালো করে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিন।

  • ফেলে রাখবেন না: তরমুজ কাটার পর তা ঘরের তাপমাত্রায় বা খোলা জায়গায় ফেলে রাখা একেবারেই চলবে না।

  • টাটকা খাওয়াই সেরা: তরমুজ কাটার পর যতটা সম্ভব দ্রুত খেয়ে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।

  • এয়ার টাইট কৌটোর ব্যবহার: যদি পরে খাওয়ার জন্য রাখতে চান, তবে তরমুজ কাটার সাথে সাথেই টুকরোগুলো একটি পরিষ্কার এয়ার টাইট  কৌটোয় ভরে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখুন।

মনে রাখবেন: তরমুজ কাটার পর ফ্রিজে রাখলেও তা খুব বেশিদিন ফেলে রাখবেন না। পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে এবং সুস্থ থাকতে তা দ্রুত খেয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *