ভাড়া বাড়েনি ৬ বছরে, ডিজেলের ধাক্কায় ধুঁকছে বাস, মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকলিপি মালিকদের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ভেঙে পড়া বেসরকারি গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে ফের নিজের পায়ে খাড়া করতে গোটা ব্যবস্থা ঢেলে সাজার দাবি তুললেন বাসমালিকরা। শুক্রবার ‘অল বেঙ্গল বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতি’র বৈঠকে উঠে এল চরম সংকটের ছবি। শুক্রবারই ডিজেলের দাম লিটারে ৯৫.১৩ টাকা ছুঁয়েছে, অথচ বছরের পর বছর ভাড়া বাড়েনি এক পয়সাও। রাজ্য সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া আর উপায় দেখছেন না মালিকরা। আগামী সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি দেবেন তাঁরা।
২০২০-র অগস্টে শহরে এক লিটার ডিজেলের মূল্য ছিল ৭৭.০৬ টাকা। ছ’বছরে প্রতি লিটারে ১৮ টাকারও বেশি বেড়েছে জ্বালানির দাম। ফলে বেসরকারি বাসে দৈনিক শুধু জ্বালানির খরচই হাজার টাকার কাছাকাছি বেড়েছে।বাসমালিকদের অভিযোগ, আগের রাজ্য সরকারের কাছে বার বার আবেদন করেও সরকারি ভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। খরচে কুলিয়ে উঠতে না পেরে শুধু কলকাতাতেই অন্তত ৪০টি রুটে বাসের সংখ্যা অর্ধেকের বেশি কমেছে। পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে এমন রুটের সংখ্যাও কয়েক ডজন। পরিবহণ ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন বহু মালিক। সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজ্যে সার্বিক ভাবে যাত্রী পরিবহণ পরিষেবা নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে দিনে দিনে খারাপ জায়গায় গিয়েছে। বাসের ন্যূনতম ভাড়া কত করা উচিত, এ বিষয়ে আমাদের কোনও দাবি থাকবে না। আমরা বেসরকারি গণপরিবহণের অবস্থা কী, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তা নিয়েই স্মারকলিপি জমা দেব।’ সমিতি জানিয়েছে, অপরিকল্পিত ভাবে বিভিন্ন রুটে চালু অটোরিকশা ও টোটো কী ভাবে বাসের ক্ষতি করেছে, সেই বিষয়টিও জানানো হবে মুখ্যমন্ত্রীকে। প্রতিবেশী ওডিশার মতো হাইওয়েতে মাসিক এক হাজার টাকার বিনিময়ে পাস দেওয়ার প্রস্তাব এবং শহরতলি সহ গোটা রাজ্যে প্রতিটি প্রধান সড়ক, রাজ্য ও জাতীয় সড়ক দখলমুক্ত করার আবেদনও করা হবে।
শুধু ভাড়ার পুনর্বিন্যাস নয়, গোটা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চাইছেন বেসরকারি বাসমালিকরা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও ৬ বছর ধরে ভাড়া স্থির থাকায় শিল্পটাই উঠে যাওয়ার মুখে। এবার নতুন সরকারের আমলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপে সংকট কাটবে, এমনটাই আশা করছেন বেসরকারি বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সদস্যরা।
