আজকের দিনেতিলোত্তমা

রাজ্যসভার পেনশন নেবেন না সিপিএমের হেভিওয়েট প্রার্থী

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে প্রাপ্য সরকারি পেনশন নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এই মর্মে তিনি ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তবে দলের প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে তাঁর এই ‘ব্যতিক্রমী’ পদক্ষেপ নিয়ে বাম শিবিরের অন্দরেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

কেন চর্চায় বিকাশের সিদ্ধান্ত?

সিপিএমের অভ্যন্তরীণ নিয়ম অনুযায়ী, দলের কোনও সদস্য বিধায়ক বা সাংসদ হলে তাঁদের প্রাপ্ত বেতন বা ভাতা সরাসরি পার্টির তহবিলে জমা দিতে হয়। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সামান্য হাতখরচ বা ভাতা দেওয়া হয়। একইভাবে প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিদের পেনশনও পার্টির তহবিলে জমা পড়ে, যা দিয়ে দলের ‘হোলটাইমার’ বা সর্বক্ষণের কর্মীদের মাসিক পারিশ্রমিক মেটানো হয়। সুজন চক্রবর্তী, মহম্মদ সেলিম বা শমীক লাহিড়ীর মতো নেতারা এই নিয়মই মেনে চলেন।তবে ২০২০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত রাজ্যসভার সাংসদ থাকা বিকাশরঞ্জন পেনশনই না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সেই টাকা পার্টি তহবিলে যাচ্ছে না। এই বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে মেজাজ হারিয়ে বিকাশবাবু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমার পেনশনের প্রয়োজন নেই। তাই নেব না। সব কিছুতে পার্টির অনুমোদন লাগে নাকি! এটা আমার সিদ্ধান্ত।”

হলফনামায় সম্পত্তির খতিয়ান

পেনশন না নেওয়ার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে বিকাশবাবুর আর্থিক সচ্ছলতা একটি বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া হলফনামায় তাঁর যে সম্পত্তির খতিয়ান মিলেছে, তা রীতিমতো চমকপ্রদ:

  • বার্ষিক আয়: চলতি অর্থবর্ষে তাঁর আয়ের পরিমাণ ২ কোটি ৯ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯৭ টাকা

  • অস্থাবর সম্পত্তি: মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৪ কোটি ২৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ২৮৮ টাকা

  • ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স: বিভিন্ন ব্যাঙ্কে কোটি কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে। শুধুমাত্র পিএনবি-র মুকুন্দপুর শাখাতেই রয়েছে ৪ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার বেশি।

  • বিলাসবহুল গাড়ি: তাঁর দুটি গাড়ির মধ্যে একটি ৭২ লক্ষ টাকা দামের ‘অডি’

মিশ্র প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে

বিকাশবাবুর এই সিদ্ধান্তকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অনুগামীরা ‘মহানুভবতা’ এবং ‘ব্যতিক্রমী’ হিসেবে প্রচার করছেন। তাঁদের দাবি, সরকারি কোষাগারের ওপর বোঝা না বাড়িয়ে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অন্যদিকে, দলের একাংশের মতে, এই টাকাটা পার্টি তহবিলে এলে অনেক কর্মীর সুবিধা হতো।

ভোটের মুখে যাদবপুরের বাম প্রার্থীর এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং তাঁর বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান— দুই নিয়েই এখন সরগরম বিধানসভা নির্বাচনের ময়দান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *