ধর্ষণের ঘটনায় সমাজ ও প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে কোর্টের কড়া নির্দেশিকা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,ঝাড়খন্ড:- ধর্ষণের ঘটনা এবং নির্যাতিতাদের প্রতি সমাজ ও প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি আমূল বদলে ফেলতে একগুচ্ছ যুগান্তকারী নির্দেশ জারি করেছে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। বিচারপতি এমএস সোনক এবং বিচারপতি রাজেশ শঙ্করের ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, বহু ক্ষেত্রে ধর্ষণের পর নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারকে সামাজিক বয়কটের মুখে পড়তে হয়। এই মানসিক যন্ত্রণা ও অস্তিত্বের সংকট থেকে মুক্তি দিতে সমাজকে সংবেদনশীল করার পাশাপাশি প্রশাসনকেও কড়া দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
১. ‘টু-ফিঙ্গার টেস্ট’ চিরতরে বন্ধের নির্দেশ
ধর্ষণ নির্ধারণে প্রাচীন ও অবৈজ্ঞানিক ‘টু–ফিঙ্গার টেস্ট’–কে এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক হেনস্থা বলে আখ্যা দিয়েছে হাইকোর্ট।
-
সরকারি ও বেসরকারি— সব ধরনের হাসপাতালে এই পরীক্ষা অবিলম্বে এবং চিরতরে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২. আইনি ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় বড় বদল
তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও নির্যাতিতাবান্ধব করতে আদালত বেশ কিছু বাধ্যতামূলক নিয়ম বেঁধে দিয়েছে:
-
জিরো এফআইআর : ঘটনা যেখানেই ঘটুক না কেন, যেকোনো থানায় ধর্ষণের অভিযোগ জানানো যাবে। সেই থানার দায়িত্ব হবে অভিযোগ নথিভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় তা স্থানান্তর করা।
-
নারী অফিসারের মাধ্যমে বয়ান: অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার একজন নারী পুলিশ অফিসার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভয়মুক্ত পরিবেশে নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করবেন।
-
তদন্তের সময়সীমা: ধর্ষণের ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত ১৫ দিনের মধ্যে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ করে ৬০ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশ করতে হবে রাজ্য পুলিশকে। এই বিষয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. সুরক্ষা, পুনর্বাসন ও শিক্ষা
নির্যাতিতা এবং তাঁর পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষায় জোর দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ:
-
আশ্রয়স্থল নির্মাণ: নাবালিকাদের জন্য সরকারি হোম থাকলেও প্রাপ্তবয়স্ক নির্যাতিতাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আদালত এবং দ্রুত আবাসন তৈরির নির্দেশ দিয়েছে।
-
বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্কলারশিপ: নির্যাতিতা নারী বা তাঁর সন্তানের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনা এবং স্কলারশিপের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।
-
নোডাল অফিসার ও আত্মরক্ষা: এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করার জন্য প্রতিটি জেলায় একজন করে নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হবে। এছাড়া, স্কুল-কলেজে মেয়েদের আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের বার্তা: আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কোনো অবস্থাতেই নির্যাতিতা বা তাঁর পরিবারকে দ্বিতীয়বার হেনস্থার শিকার হতে না হয়।
