সন্তানের জন্মের পরই লিভ-ইনে থাকা প্রেমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, দিল্লি:- প্রেম বা লিভ-ইন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যাওয়া মানেই সেটা কোন অপরাধ নয়। লিভ-ইন সম্পর্কে ধর্ষণের মামলায় তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের।দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি বিভি নাগরত্ন বললেন, বিয়ের আইনি বাধ্যবাধকতা নেই এমন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু সহজাত ঝুঁকিও থাকে। সম্মতিক্রমে গড়ে ওঠা লিভ-ইন –এর সম্পর্ক এবং যৌন হেনস্তার মধ্যে অনেকটাই পার্থক্য রয়েছে।
সম্প্রতি একটি মামলায় এক মহিলা নিজের লিভ ইন সঙ্গীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং শোষণের অভিযোগ এনেছেন। সেই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়।
অভিযোগ
তাঁর প্রেমিক বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করেছিলেন। পরে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে চলে যান। সেই সম্পর্কে থাকাকালীন একটি সন্তানও হয় তাঁদের। মহিলার দাবি, তিনি শোষিত এবং লাঞ্ছিত হয়েছেন।
বিচারপতি নাগরত্ন- এর প্রশ্ন
“এটি একটি লিভ-ইন সম্পর্ক। বিয়ের আগেই ওই মহিলা ওই ব্যক্তির সঙ্গে সন্তান ধারণ করেছিলেন। আর এখন তিনি ধর্ষণের অভিযোগ তুলছেন। এটা কী হচ্ছে?”
বিচারপতির প্রশ্ন, দু’পক্ষের সম্মতিতে হওয়া যৌনতাকে কীভাবে ধর্ষণ হিসাবে গণ্য করা যায়? তিনি তাঁর নির্দেশনামায় বলেছেন, “আজকাল এই ধরনের প্রশ্ন তুললেই সেটাকে ভিকটিম শেমিং বলা হয়।” এছাড়াও তিনি বলেন “বহু লিভ ইন সম্পর্কে এমন হয়। বছরের পর বছর তাঁরা একসঙ্গে থাকে। তারপর বিচ্ছেদ হলেই মহিলারা পুরুষসঙ্গীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। কিন্তু ভুললে চলবে না, এ সবকিছুই বিয়ের আগের সম্পর্কের সহজাত ঝুঁকি।”
শীর্ষ আদালতের প্রশ্ন
ওই মহিলার যদি কোন বিষয়ে কোন সন্দেহ থেকে থাকে তাহলে তিনি সন্তানধারণের সিদ্ধান্ত নিলেন কেন ? এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ওই মহিলার প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে বলেছে, “অভিযোগকারী মহিলা চাইলে সন্তানের ভরণপোষণের জন্য মামলা করতে পারেন। তবে সম্পর্ক ভাঙার জন্য ধর্ষণের মামলার করা যায় না।”
