CAA-র প্রশংসায় মোদিকে আবেগঘন চিঠি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ছাব্বিশের পরিবর্তনের পর বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হতে না হতেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। পশ্চিমবঙ্গ দিবস ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলা সফরের ঠিক দু’দিনের মাথায়, তাঁকে একটি আবেগঘন ও দীর্ঘ চিঠি লিখলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২২ জুন, সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের লেটারহেডে পাঠানো তিন পাতার এই বাংলা চিঠিতে একদিকে যেমন রয়েছে সুশাসনের খতিয়ান, তেমনই রয়েছে মোদি সরকারের কাশ্মীর নীতি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অকুণ্ঠ প্রশংসা।
‘পরম সম্মানীয় মোদীজি’ সম্বোধন, গত ১৫ বছরের অপশাসন থেকে মুক্তির দাবি
চিঠির শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীকে ‘পরম সম্মানীয় মোদীজি’ বলে সম্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের কোটি কোটি মানুষের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘গৈরিক অভিনন্দন’ ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। চিঠিতে শুভেন্দুর স্পষ্ট দাবি— বিগত ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অপশাসনের অন্ধকার অধ্যায় থেকে অবশেষে মুক্ত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এই মুহূর্তে বাংলা সুশাসন, প্রগতি এবং সার্বিক বিকাশের এক নতুন পথের দিকে এগোচ্ছে।
শ্যামাপ্রসাদের অবদান ও ২০২৬ সালের ঐতিহাসিক মাহাত্ম্য
মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠিতে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক অবদান। শুভেন্দু লিখেছেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন শ্যামাপ্রসাদের দূরদর্শী প্রচেষ্টাতেই অবিভক্ত ভারতের অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ আত্মপ্রকাশ করার গৌরব অর্জন করেছিল এবং হিন্দু বাঙালিরা তাদের নিজস্ব একখণ্ড ভূমি পেয়েছিল।
চলতি ২০২৬ সালকে বাংলার ইতিহাসের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বছর হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন:
-
এটি সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কালজয়ী ‘বন্দে মাতরম’ গানের সার্ধশতবর্ষ (১৫০ বছর)।
-
এবছরই পালিত হচ্ছে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবর্ষ।
-
এবং এই ঐতিহাসিক বছরেই বঙ্গে জনসমর্থন নিয়ে বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথমবার সাড়ম্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস ও যোগ দিবস পালিত হলো, যেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।
“সিএএ যেন ঈশ্বরের আশীর্বাদ”, উদ্বাস্তুদের চোখের জল মোছার স্বীকৃতি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাশ্মীর নীতি এবং শরণার্থী ও উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকরের সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে আবেগঘন ভাষায় তিনি লিখেছেন— “১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময়ে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এবং ধর্মীয় উগ্রতার কারণে ধারাবাহিকভবে যারা পশ্চিমবঙ্গ বা এদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, সিএএ-র মাধ্যমে তাঁদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া ঈশ্বরের আশীর্বাদের মতো।” এই আইন দীর্ঘদিনের উপড়াট ও উদ্বাস্তু মানুষের চোখের জল মুছিয়ে দিয়েছে বলে দাবি শুভেন্দুর।
মোদির নেতৃত্বেই ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রত্যয়
চিঠির শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গেই দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথ ও তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বকে পাথেয় করেই আগামী দিনে নতুন ও ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে বর্তমান রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর।
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ: বাংলায় ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ও বিজেপি সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং ঠিক তার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠি অত্যন্ত অর্থবহ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চিঠি শুধু সৌজন্যের নয়, বরং আগামী দিনে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলার বুকে এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক মেরুকরণের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিল।
