প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র! সিআইএ-র কাছে অর্থ চেয়ে বার্তা, বিহারে ধৃত ৩
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বক্সার (বিহার): লোকসভা নির্বাচনের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার ছক! বিহারের বক্সার জেলা থেকে এই ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত অমল কুমার তিওয়ারি-সহ ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এই নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বক্সার জেলার সিমরি থানার আশা পারারি গ্রামে অতর্কিতে হানা দেয় পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে চালানো এই অভিযানে অমল কুমার ও তার দুই সহযোগীকে পাকড়াও করা হয়। ধৃতদের বর্তমানে একটি গোপন ও সুরক্ষিত স্থানে রেখে জেরা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই ষড়যন্ত্রের জাল অত্যন্ত গভীরে বিস্তৃত। পুলিশের দাবি, মূল অভিযুক্ত অমল কুমার মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-কে বার্তা পাঠিয়ে এই অপারেশনের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর উপর হামলা চালানোর জন্য তারা নির্দিষ্ট একটি সময়সীমা বা ‘ডেডলাইন’ নির্ধারণ করেছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে, হামলার জন্য তারা ২২ দিন সময় চেয়েছিল।
অভিযুক্তরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বেশ কিছু গোপনীয় তথ্য জোগাড়ের চেষ্টাও চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ।
ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে। সেগুলিতে কী ধরনের তথ্য রয়েছে বা কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তা জানতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করা হয়েছে। এই দল ধৃতদের সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন বা বিদেশি অন্য কোনো সংস্থার সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
এদিকে, এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে বক্সারের আশা পারারি গ্রামে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত অমল কুমারের মা অভিযোগ করেছেন, “রাতে সাদা পোশাকে পুলিশ এসে কোনো কারণ ছাড়াই ছেলেকে তুলে নিয়ে যায়।” পরিবারের দাবি, অমল নির্দোষ এবং এই ধরনের কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সে যুক্ত নয়।
তবে গোয়েন্দারা এই ঘটনাকে হালকাভাবে নিতে নারাজ। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং এই চক্রের পেছনে বড় কোনো মাথার হাত রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
