আজকের দিনেতিলোত্তমা

রথের রশিতে টান দিয়ে বড় চমক মুখ্যমন্ত্রীর ! ইসকনকে বিশেষ দায়িত্বের ঘোষণা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই প্রথম কলকাতায় পালিত হলো ঐতিহ্যবাহী ইসকনের রথযাত্রা। আর এবারের উৎসবে ছিল একবারে নতুন আমেজ। প্রথা মেনে আলবার্ট রোডের ইসকন মন্দিরে বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌঁছে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

প্রবল বৃষ্টির মাঝেই ভক্তিভরে জগন্নাথ দেবের আরতি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সোনার ঝাঁটা দিয়ে পথ পরিষ্কার করার (ছেঁড়া পহঁরা) ঐতিহ্যবাহী আচার পালন করে রথের রশিতে টান দেন তিনি। এই ধর্মীয় মঞ্চ থেকেই একদিকে যেমন মায়াপুর নিয়ে বড় প্রশাসনিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী, তেমনই রাজ্যজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা স্কুলের মিড-ডে মিল প্রকল্পে ইসকনের ভূমিকা নিয়েও দিলেন কড়া বার্তা।

মায়াপুর নিয়ে বড় ঘোষণা ও প্রভুপাদের বাড়িকে হেরিটেজ তকমা

রথযাত্রার মঞ্চ থেকে মায়াপুরকে নিয়ে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রশাসনিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান:

  • নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটি: মায়াপুরের সামগ্রিক উন্নয়ন ও পরিকাঠামো জোরদার করতে খুব শীঘ্রই একে ‘নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটি’  হিসেবে ঘোষণা করবে রাজ্য সরকার।

  • প্রভুপাদের বাসভবন: ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল প্রভুপাদ কলকাতায় থাকার সময় যে ঘরটিতে থাকতেন, সেটিকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করার সপক্ষে সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নবগঠিত রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের মাধ্যমে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 মিড-ডে মিল বিতর্ক: দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১লা আগস্ট থেকে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের সরকারি স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের রান্না করা খাবার সরবরাহের দায়িত্ব নিতে চলেছে ইসকন। এই প্রকল্পে মাথাপিছু বরাদ্দও ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। তবে মেনুতে ডিম না থাকা এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কাজ হারানোর আশঙ্কা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার জবাব রথের মঞ্চ থেকেই স্পষ্ট ভাষায় দেন মুখ্যমন্ত্রী।

পূর্বতন সরকারের কড়া সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিগত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে মিড-ডে মিল নিয়ে যে ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিশুদের পুষ্টির খাবার নিয়ে নয়ছয় করা আসলে মহাপাপের সমান। মধ্যবিত্ত ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছেলেমেয়েরাই মূলত এই খাবারের ওপর নির্ভর করে। তাই শিশুদের কাছে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত, দুর্নীতিমুক্ত এবং অত্যন্ত উন্নত মানের পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। আগামী দিনে ইসকন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এই পবিত্র দায়িত্ব পালন করবে।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন, শুধু ইসকন নয়, আগামী দিনে রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো বিভিন্ন আধ্যাত্মিক ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়েই বাংলার নবনির্মাণের কাজ করবে সরকার।

এবারের রথের বিশেষ আকর্ষণ: বালির সাজে ব্রিগেড, সুখোই-এর চাকা

আলবার্ট রোড থেকে শুরু হওয়া এই বারের রথযাত্রাটির প্রধান আকর্ষণ হলো ময়দানের ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের মাসির বাড়ি (গুণ্ডিচা মন্দির)। তিরুপতি বালাজি মন্দিরের স্থাপত্যের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে এবারের অস্থায়ী মন্দিরটি।

  • ভোগে রাজকীয় ছোঁয়া: ৫৬ ভোগের পাশাপাশি এবার প্রসাদে থাকছে তিরুপতির ঐতিহ্যবাহী লাড্ডু, পানাকম, ইডলি, তেঁতুল ভাত এবং দই ভাত।

  • যুদ্ধবিমানের চাকা: গত বছরের মতো এবারও মহাপ্রভুর রথে যুক্ত করা হয়েছে সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের টায়ার, যাতে যাত্রাপথে কোনও ধরনের বিপত্তি না ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *