আজকের দিনেবাংলার আয়না

নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,হরিপাল: কুলটির পর এবার হুগলির হরিপাল। আবারও কাঠগড়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। এক নাবালিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগে হরিপালের বন্দিপুর গ্রামে এক জওয়ানকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা。 পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত জওয়ানকে একটি গাছে বেঁধে রাখে。 এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে হরিপাল থানা এলাকায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়。

টিউশন থেকে ফেরার পথে হেনস্তার অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিপালের বন্দিপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই নাবালিকা শুক্রবার সন্ধ্যায় টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল。 অভিযোগ, সেই সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওই জওয়ান তার হাত ধরে টানে এবং নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে。 নাবালিকার চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে এসে ওই জওয়ানকে পাকড়াও করে এবং প্রতিবাদ স্বরূপ তাঁকে গাছে বেঁধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে。

থানার সামনে তৃণমূলের বিক্ষোভ

ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই হরিপালের তৃণমূল প্রার্থী করবী মান্না তাঁর অনুগামীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান。 অভিযুক্ত জওয়ানের কঠোর শাস্তির দাবিতে তাঁরা হরিপাল থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন。 করবী মান্না ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “যাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব, তারা বাংলায় এসে বাংলার মেয়েদের ওপর অত্যাচার করবে—এটা মেনে নেওয়া যায় না। অবশ্যই সিআরপিএফের শাস্তি চাই”。 যদিও অভিযুক্ত জওয়ান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন。

পুলিশের হস্তক্ষেপ ও উত্তেজনা

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই জওয়ানকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা পুলিশের গাড়ি ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান。 পুলিশ কোনোক্রমে জওয়ানকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়。

কুলটির স্মৃতি উসকে দিল এই ঘটনা

উল্লেখ্য, এর কিছুকাল আগেই আসানসোলের কুলটিতে এক ১০ বছরের নাবালিকাকে মিষ্টি আমের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল এক সিআইএসএফ  জওয়ানের বিরুদ্ধে。 সেই ঘটনায় অভিযুক্ত রমাকান্ত বিশ্বকর্মাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল。 কুলটির সেই ক্ষত দগদগে থাকাকালীনই হরিপালের এই ঘটনা ভোট-পরবর্তী বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল。

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্দিপুর গ্রামে এখনও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *