আজকের দিনেবাংলার আয়না

বাস অধিগ্রহণ শুরু,কতদিন চলবে এই ভোগান্তি ?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডয়া বাংলা,কলকাতা:- রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন দোড় গোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। সেই উপলক্ষে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বেসরকারি বাস অধিগ্রহণ শুরু তবে মঙ্গলবার থেকে সেই প্রক্রিয়া আরও ব্যাপক আকার নিতে চলেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটের সঙ্গে গণনাপর্ব সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে মঙ্গলবার থেকে বেশি সংখ্যায় বাস অধিগ্রহণ শুরু হয়েছে।

ভোটের প্রায় এক মাস আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর চলাচল ও নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের জন্য বেসরকারি বাস অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে প্রভাব পড়েছে। এবার সেই ভোগান্তি আরো বাড়তে চলেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফার ভোটের পাশাপাশি দ্বিতীয় দফা ও গণনাপর্বের জন্য বিপুল সংখ্যক বাসের প্রয়োজন। সেই চাহিদা মেটাতেই মঙ্গলবার থেকে রাজ্যের সিংহভাগ বেসরকারি বাসকে নির্বাচনী ডিউটির জন্য তুলে নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক রুটের বাস সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহের মাঝপথ থেকেই শহর কলকাতা থেকে জেলা – সর্বত্রই বেসরকারি বাসের আকাল দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, প্রথম দফার ভোটে মোট ১৫২টি নির্বাচনকেন্দ্রের জন্য বিপুল সংখ্যক বাস অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ফলে ২১ এপ্রিল থেকেই বহু বাসকে নির্বাচনী দায়িত্বে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। এর জেরে রাস্তায় যাত্রিবাহী বাসের সংখ্যা হঠাৎ করেই কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যযাত্রীদের উপর। শুধু প্রথম দফা নয়, পরবর্তী দফার ভোটের প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। ২৯ এপ্রিলের নির্বাচনের জন্য ২৬ এপ্রিল থেকেই সংশ্লিষ্ট বাসগুলিকে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। ফলে এক দফার পর আর এক দফা— এই ধারাবাহিক বাস অধিগ্রহণের ফলে প্রায় টানা কয়েক সপ্তাহ রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় চাপ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ভোগান্তির রেশ শুধু ভোটগ্রহণের এই দু’ দফাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।৪ মে রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল বা ভোটগণনা। বাস সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণনাপর্ব মিটিয়ে এবং ভোটকর্মীদের ফেরত পৌঁছে দিয়ে বাসগুলি রাস্তায় ফিরতে ফিরতে অন্তত ৬ মে হয়ে যাবে। অর্থাৎ, আগামী দুই সপ্তাহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতে এই চরম অস্থিরতা বজায় থাকবে। সরকারি বাস পরিষেবা থাকলেও, বিপুল সংখ্যক যাত্রীর চাপ সামলানো তার পক্ষে দুঃসাধ্য বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ করে অফিস যাত্রী এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হতে চলেছে। ট্রেনের ওপর চাপ বাড়লেও শহরতলি বা প্রান্তিক এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা বেসরকারি বাস। ভোটের এই ডামাডোলে তাঁদের জন্য কোনও বিকল্প ব্যবস্থার কথা এখনও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়নি। সব মিলিয়ে প্রচারের উত্তাপ আর রাজনীতির লড়াইয়ের মাঝে গণপরিবহণ সংকটে পড়ে কার্যত নাজেহাল হওয়ার অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *