Chinkens Neck : বর্ষায় চোরাচালান রুখতে চিকেনস নেকের নদীতে বিএসএফের কড়া নজরদারি !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, শিলিগুড়ি – বর্ষার সুযোগে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে ‘চিকেনস নেক’ সংলগ্ন আন্তঃসীমান্ত নদীগুলিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নজরদারি শুরু করল বিএসএফ। তিস্তা, আত্রেয়ী, গঙ্গার মতো ৫৭টি খরস্রোতা নদীতে ড্রোন, থার্মাল ইমেজার ও আন্ডারওয়াটার সেন্সর বসিয়ে চলছে কড়া পাহারা।
ভারত-বাংলাদেশের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের বড় অংশই নদী ও জলাভূমি ঘেরা। তিস্তা, আত্রেয়ী, গঙ্গার মতো আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা প্রায় ৫৭টি। বেশিরভাগ খরস্রোতা নদীতে স্পিড বোটে নজরদারি সম্ভব হয় না। বর্ষা শুরু হতেই উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে, জলস্তর বাড়ছে উত্তরের নদীগুলিতে। কোচবিহার, মালদহের আন্তর্জাতিক সীমানায় থাকা কাঁটাতারের বেড়া জলে তলিয়ে যায়, অনেক নদী গতিপথ পালটে ফেলে এবং বন্যায় বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এই দুর্যোগের সুযোগ নিয়েই নদীপথে সক্রিয় হয়ে ওঠে জেহাদি ও চোরাকারবারিরা। অনুপ্রবেশের পাশাপাশি গবাদি পশু ও মাদক পাচারের প্রবণতাও বেড়ে যায় বর্ষায়। রাতের অন্ধকারে নৌকায় বেআইনি কারবার চলে, নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় গরু।
এই প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে বিএসএফ। সীমান্তের নদীপথে ড্রোন উড়িয়ে চলছে নজরদারি। নদীতে ডুব দিয়ে কেউ সীমান্ত টপকানোর চেষ্টা করলে তার গতিবিধি ধরতে বসানো হয়েছে আন্ডারওয়াটার সেন্সর। প্রবল বর্ষণের রাতে মানুষের পক্ষে নিখুঁত পাহারা সম্ভব নয়, তাই থার্মাল ইমেজার, রাডার-সজ্জিত ড্রোন এবং এআই নির্ভর ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকা প্লাবিত হলে ফ্লোটিং বর্ডার আউটপোস্ট খোলার সিদ্ধান্তও হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে রাতে টহলদারি বাড়িয়েছে। এতদিন বাজ পড়ে অনেক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে, বর্ষায় নদীপথ সামলাতে হিমসিম খেতে হত। কিন্তু এবার প্রযুক্তির ভরসায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার বলয় তৈরি করতে বদ্ধপরিকর সীমান্ত রক্ষী বাহিনী।
কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে উত্তেজনা ও মিথ্যা প্রচার চললেও, বর্ষায় নদীপথকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএসএফ। বাংলাদেশ থেকে উন্মুক্ত নেপাল সীমান্ত— সর্বত্রই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারিতে জোর দেওয়া হয়েছে। চিকেনস নেকের নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ কেন্দ্র।
