Book : মোবাইল ছেড়ে বইমুখী করতে রবিবাসরীয় ‘বোধিপীঠ পাঠাগার’ চাপলা নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়ে !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা , নিজস্ব প্রতিনিধি :-রবিবারের ছুটির দিনেও পড়ুয়াদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ নিল চাপলা নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়। স্কুলে চালু হল ‘বোধিপীঠ পাঠাগার’। মোবাইলের প্রতি আসক্তি কমিয়ে বইয়ের দিকে পড়ুয়াদের মন ফেরাতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে ,এই পাঠাগারে রামায়ণ-মহাভারত থেকে শুরু করে বিজ্ঞান পত্রিকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার সুযোগ পাবে ছাত্র-ছাত্রীরা। শুধু পড়ুয়ারাই নয়, স্কুলে সন্তানদের নিয়ে আসা অভিভাবকরাও অবসর সময়ে এখানে বই পড়তে পারবেন। পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া এবং অনাগ্রহী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ‘চিল্ড্রেন উইথ স্পেশাল নিড’ রুমে রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। গল্পের বইয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক শেখর হালদার জানান, বিদ্যালয়কে শিশুবান্ধব করে তুলতেই তাঁদের এই প্রচেষ্টা। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ সফল হয়েছে। পাঠাগারের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন মথুরাপুর ২ নম্বর ব্লকের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্কুল পরিদর্শক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। উল্লেখ্য, সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে শুভেন্দু বোসের সহযোগিতায় এটি ১৭তম ‘বোধিপীঠ পাঠাগার’। লায়ন্স ক্লাব অফ রোশনির পক্ষ থেকে স্কুলে আরও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ডিজিটাল আসক্তির যুগে রবিবারের ছুটিতেও স্কুল খুলে পাঠাগার চালু করার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। মোবাইল-গেম ছেড়ে রামায়ণ-মহাভারত আর বিজ্ঞান পত্রিকার পাতায় মুখ গুঁজছে খুদেরা, এই ছবিটাই ফেরাতে চায় চাপলা নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনেদের দাবি, ব্লকের অন্যান্য স্কুলেও এমন উদ্যোগ চালু হোক। শিক্ষক-অভিভাবকদের মিলিত প্রচেষ্টায় ‘বোধিপীঠ পাঠাগার’ যদি সত্যিই পড়ুয়াদের বইমুখী করতে পারে, তবে আগামী প্রজন্মের জন্য সেটাই হবে রবিবাসরীয় সেরা উপহার।
