আজকের দিনেতিলোত্তমা

তোলাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে গ্রেফতার বাপ্পাদিত্যের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার পাটুলি এলাকায় সিন্ডিকেট, তোলাবাজি এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের হেভিওয়েট তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। এর আগে শনিবার বিকেলে একই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব সভাপতি সৌরভ ঘোষকে। ধৃত যুব নেতার সূত্র ধরেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাপ্পাদিত্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রবিবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক আগামী ২১ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

থানায় ‘চোর’ স্লোগান, আছড়ে পড়ল জনতার ক্ষোভ:

তৃণমূল কাউন্সিলরের গ্রেফতারির খবর ছড়াতেই পাটুলি এলাকায় দীর্ঘদিনের জমে থাকা জনক্ষোভ আছড়ে পড়ে। শনিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাপ্পাদিত্যকে যখন পাটুলি থানায় নিয়ে আসা হয়, তখন সেখানে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের গাড়ি থেকে নামার সময়ই উত্তেজিত জনতা কাউন্সিলরকে দেখে ‘বাপ্পা চোর’, ‘বাপ্পা চোর’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ কোনো রকমে তাঁকে ভিড় থেকে বের করে থানার ভেতরে নিয়ে যায়।

যুবনেতা সৌরভের গ্রেফতারি ও বাপ্পাদিত্যের সাম্রাজ্য পতন:

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত তৃণমূল যুব নেতা সৌরভ ঘোষ ছিলেন পাটুলি এলাকার ‘ত্রাস’। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট চালানো এবং প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষকে ঘরছাড়া করার হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আসছিল। সম্প্রতি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ওপর তাঁর জুলুমবাজি চরমে পৌঁছালে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। আর সৌরভকে জেরা করেই উঠে আসে কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের নাম।

বিজেপির আইনজীবী সেলের পক্ষ থেকে আদালতের বাইরে দাবি করা হয়, “কাউন্সিলরের ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। থানায় গেলে আর বাড়ি ফেরা যাবে না—এমন ভয় দেখানো হতো। কিন্তু বাপ্পাদিত্য গ্রেফতার হতেই সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কাটমানি, তোলাবাজি এবং বাড়িতে গিয়ে হেনস্থা করার ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করেছে।”

রাজনৈতিক জীবন ও অতীতের অভিযোগ:

বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে তৎকালীন তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০১৫ সালের পুরভোটে তিনি প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরপর ২০২১ সালের পুরনির্বাচনেও জয়লাভ করে দ্বিতীয়বারের জন্য কাউন্সিলর হন এবং কলকাতা পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের ‘মুখ্য সচেতক’ -এর দায়িত্বও সামলান।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পাটুলি এলাকায় বিজেপি সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় বাপ্পাদিত্যের অনুগামীদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় বাপ্পাদিত্যের পাশাপাশি স্থানীয় তৃণমূল নেতা গণেশ মণ্ডল ও শম্ভু মণ্ডলের নামও জড়িয়েছিল। এ ছাড়া এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের কাটমানি আদায়ের অভিযোগ তুলে আসছিল বিরোধী দলগুলি।

পুলিশ জানিয়েছে, বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজি, হুমকি এবং ভোট-পরবর্তী হিংসাসহ সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে হেফাজতকালীন দিনগুলিতে বিস্তারিত তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *