শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা? ভোটবঙ্গের সকালে তীব্র চাঞ্চল্য, পরে ‘ভুয়ো’ বলে জানাল কমিশন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ঠিক আগের দিন, বুধবার সকালে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সাক্ষী থাকল বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহল। আচমকাই খবর ছড়িয়ে পড়ে, জনপ্রিয় কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। কয়েক বছর আগের এক পুরনো মামলার জেরে কবিকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে— এমন খবরে যখন রাজ্য তোলপাড়, ঠিক তখনই কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই খবর সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো’।
ঘটনার সূত্রপাত
বুধবার সকালে সংবাদমাধ্যমে খবর চাউর হয় যে, ২০১৯ সালে কৃষ্ণনগর আদালতে কবি শ্রীজাতর বিরুদ্ধে হওয়া একটি মামলার ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। মূলত শ্রীজাতর বিতর্কিত কবিতা ‘অভিশাপ’ নিয়ে সেই সময় ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলেছিল হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। রটে যায় যে, ভোট নির্বিঘ্ন করতে আইন-শৃঙ্খলার স্বার্থে কমিশন এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
শ্রীজাতর প্রতিক্রিয়া: প্লেটোর দর্শন ও বাস্তব
সকালে সংবাদমাধ্যমের থেকেই নিজের ‘গ্রেপ্তারি’র খবর পান শ্রীজাত। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর তত্ত্বকে স্মরণ করে বলেন,”আদর্শ রাষ্ট্রে কবির কোনও জায়গা হয় না। গলা খুলে কথা বলা বা মাথা তুলে কথা বলাকে সমাজে অন্যায় হিসেবেই প্রচার করা হয়। হয়তো সেই একটু বেশিই হয়ে গেছে, তার মাশুল দিতে হবে।” তিনি আরও জানান যে, আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগও পাননি, তাই বিস্তারিত না জেনে চূড়ান্ত কোনও মন্তব্য করতে চান না।
কমিশনের হস্তক্ষেপ ও প্রতিবাদ
খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই সংস্কৃতি মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন। অনেকেই একে ‘সেন্সরশিপ’ এবং ‘বাকস্বাধীনতা হরণ’ বলে নিন্দা জানান। তবে বিতর্কের পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, শ্রীজাতর বিরুদ্ধে কোনও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়নি। পুরো বিষয়টিই একটি রটনা। কমিশন শীঘ্রই এই নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রেক্ষাপট: সেই পুরনো বিতর্ক
প্রসঙ্গত, শ্রীজাতর ‘অভিশাপ’ কবিতাটি নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। এই কবিতার জেরে ফেসবুকে তাঁর প্রোফাইল রিপোর্ট করা থেকে শুরু করে অসমে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে কট্টরপন্থীদের হাতে হেনস্থা হওয়া— বারবার আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। ২০১৯-এর সেই মামলার জেরে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে এই গুজব ছড়ানোয় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
আগামিকাল রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। তার আগে এই ধরণের চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং পরে তা ভুয়ো প্রমাণিত হওয়ায় প্রশাসন ও গোয়েন্দা বিভাগ বাড়তি সতর্কবার্তা জারি করেছে।
