আইএসএফ-কে তোষণ! আলিমুদ্দিনের ওপর ক্ষুব্ধ সিপিএমের নিচুতলা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নওশাদ সিদ্দিকির দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া নিয়ে সিপিএমের অন্দরে বিদ্রোহের সুর। আইএসএফ-এর দাবি মেটাতে গিয়ে দলের পোড়খাওয়া নেতাদের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করতে বাধ্য করায় আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নিচুতলার কর্মী ও জেলা নেতৃত্ব। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় এই অসন্তোষ এখন চরম পর্যায়ে।
জেলা সম্পাদকের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার, ক্ষুব্ধ পূর্ব মেদিনীপুর সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পশ্চিম আসনটি নিয়ে। সেখানে সিপিএম প্রার্থী করেছিল দলের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহিকে। তিনি পুরোদমে প্রচার শুরু করে দেওয়ার পরও আলিমুদ্দিনের নির্দেশে তাঁকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে আইএসএফ-কে জায়গা করে দিতে। জেলা সম্পাদকের মতো নেতৃত্বকে এভাবে বসিয়ে দেওয়া মেনে নিতে পারছে না জেলা সিপিএমের বড় অংশ। আলিমুদ্দিনকে ইতিমধ্যেই লিখিতভাবে নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছে জেলা কমিটি।
ক্যানিং পূর্ব ও জোটের জট একই ছবি দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও। ক্যানিং পূর্বে আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রার্থী না দেওয়ার পথে হাঁটছে সিপিএম, যাতে আইএসএফ সুবিধা পায়। কিন্তু স্থানীয় বাম কর্মীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, পার্টি সেখানে প্রার্থী না দিলে তারা জোট প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামবে না। ৩১টি আসনে আইএসএফ প্রার্থী দিলেও তার মধ্যে অন্তত ৩০টিতে সিপিএমের নিচুতলার কর্মীরা আদৌ কতটা মন দিয়ে প্রচার করবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়েছে।
শরিকি কোন্দলে জেরবার বামফ্রন্ট শুধু সিপিএমের অন্দর নয়, জোট নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে বাম শরিকদের মধ্যেও। আইএসএফ-কে জমি ছাড়তে নারাজ ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি।
-
মধ্যমগ্রাম: এখানে আইএসএফ প্রার্থী দিলেও পাল্টা নিতাই পালকে প্রার্থী করেছে ফরওয়ার্ড ব্লক।
-
বাসন্তী: এই আসনে আইএসএফ-এর বিরুদ্ধে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে আরএসপি।
আসন সমঝোতার চিত্র বিরোধ ও বিক্ষোভের মাঝেই বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বুধবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। যেখানে জানানো হয়েছে, বামফ্রন্ট ও লিবারেশন ঐক্যবদ্ধভাবে লড়বে। আসন ভাগাভাগি অনুযায়ী:
-
সিপিএম: ১৯৫টি আসন
-
ফরওয়ার্ড ব্লক: ২৩টি আসন
-
সিপিআই ও আরএসপি: ১৬টি করে আসন
-
আরসিপিআই ও মার্কসবাদী ফ. ব্লক: ১টি করে আসন
-
সহযোগী শক্তি: লিবারেশন ৮টি এবং আইএসএফ ৩০টি আসনে লড়বে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন সংখ্যা চূড়ান্ত হলেও নিচুতলার কর্মীদের মনে যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে, তা ভোটবাক্সে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আইএসএফ-এর প্রার্থীর হয়ে বাম কর্মীদের মাঠে নামানোই এখন আলিমুদ্দিনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
