Europe Heatwave: তাপপ্রবাহে নাজেহাল গোটা ইউরোপ, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার পার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- প্রচণ্ড উত্তাপ! পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে চারিদিক। এই বছর বীভৎস তাপমাত্রার সাক্ষী থাকল গোটা ইউরোপ। তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় দশ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জুনের শেষ দিন থেকেই অবস্থা চরমে ওঠে।
গবেষকরা যাকে ‘অতিরিক্ত মৃত্যুহার’ (excess mortality)—অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে প্রত্যাশিত মৃত্যুর সংখ্যা ও প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যার মধ্যকার পার্থক্য—বলে অভিহিত করেন, তার হার জুনের শেষদিকে হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল, সে সময় ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ইউরোমোমো, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহযোগিতায় পরিচালিত একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থা, জানিয়েছে—গত ২০ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সময়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার জনের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি।
উদাহরণস্বরূপ, অত্যধিক তাপের সংস্পর্শে আসার ফলে—বিশেষ করে বয়স্ক বা আগে থেকেই কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে—যে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, মৃত্যু সনদে তা কেবল ‘হার্ট অ্যাটাক’ হিসেবেই উল্লেখ করা হতে পারে। ইউরোমোমোর কর্মকর্তা এবং ডেনমার্কের স্ট্যাটেন্স সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড প্রতিবেদককে বলেন, “এই মৃত্যুগুলো সরাসরি তাপপ্রবাহের ফল। এর অন্য কোনো ব্যাখ্যা নেই। বছরের এই সময়ে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু মোটেও স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
গ্রীষ্মের শুরুটা বেশ উদ্বেগজনক। গত কয়েক বছরে ইউরোপে একাধিক তাপপ্রবাহের কারণে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে তাপজনিত কারণে মৃত্যুর নিরিখে ২০০৩ সালটিই ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। সে বছর প্রায় ৭০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহের হার ও তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে গেছে, আর কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানি পোড়ানোর কারণেই মূলত এই জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে।
