শহরের অটোরুটে এবার গেরুয়া নিশান
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের রেশ এবার সরাসরি এসে পড়ল শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায়। ১৫ বছর পর বাংলায় সরকার পরিবর্তনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমূল বদলে গেল তিলোত্তমার অটোরুটগুলোর চেনা ছবি। মঙ্গলবার সকালে শহরের প্রায় প্রতিটি রুটেই দেখা গেল অটোর মাথায় উড়ছে গেরুয়া পতাকা।
গেরুয়া আবিরে মাতলেন অটো চালকরা
ভোটের ফল প্রকাশের দিন রাস্তাঘাট কার্যত শুনশান থাকলেও, আজ সকাল থেকেই রাজপথে অটোর সংখ্যা বেড়েছে। তবে সেই অটোগুলোর ভোল এক লহমায় বদলে গিয়েছে।
-
গেরুয়া ঝান্ডা: বেহালা, ঠাকুরপুকুর, তারাতলা, রাসবিহারী, কসবা এবং রুবির মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটের প্রতিটি অটোর মাথায় এখন পতপত করে উড়ছে গেরুয়া নিশান।
-
উত্তর কলকাতা ও শহরতলি: উল্টোডাঙা, কাদাপাড়া, বাগবাজার এবং বারাকপুরেও একই ছবি ধরা পড়েছে।
-
বিজয় উল্লাস: বালিগঞ্জের একটি অটোস্ট্যান্ডে দেখা গেল, চালকরা ডিজে বাজিয়ে নাচছেন এবং একে অপরকে গেরুয়া আবির মাখিয়ে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন।
কেন এই দলবদল?
আইএনটিটিইউসি ছেড়ে রাতারাতি গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানো চালকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। জনৈক চালকের কথায়, “বিজেপি ইউনিয়ন গড়ার ডাকে আমরা সবাই এক হয়েছি।”
অটোচালকদের এই পরিবর্তনের নেপথ্যে উঠে আসছে কয়েকটি প্রধান কারণ:
-
অতিরিক্ত পারমিট ও দুর্নীতি: নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রতিটি রুটে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি অটো নামানো হয়েছে এবং রুট পারমিট হাজার হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
-
পুলিশি জরিমানা: দিনের পর দিন রাস্তায় পুলিশের জরিমানার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় চালকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
-
দাপুটে মনোভাব: তৃণমূল ইউনিয়নের একাংশের একচেটিয়া দাপুটে মনোভাবের ফল সরকারকে ভুগতে হয়েছে বলে মনে করছেন চালকদের একাংশ।
জ্বালানির দাম ও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রত্যাশা
বিগত কয়েকমাস ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের জেরে এলপিজি গ্যাসের আকাশছোঁয়া দামবৃদ্ধি অটোরুটে চরম হয়রানি তৈরি করেছিল। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দোষারোপের টানাপোড়েনে চালক ও যাত্রী—উভয়কেই ভুগতে হয়েছে। এখন রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসায় জ্বালানি সমস্যার সমাধান এবং সুষ্ঠু পরিবহণ ব্যবস্থার আশা করছেন তিনচাকার মালিকরা। তাদের প্রত্যাশা, নতুন জমানায় ভাড়ার স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং ইউনিয়নে স্বচ্ছতা আসবে।
