ভোট মিটতেই ইডি দপ্তরে সুজিত বসু
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই আইনি তৎপরতা শুরু। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে শুক্রবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দপ্তরে হাজিরা দিলেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
নির্বাচনের পর হাজিরা
নির্বাচনের আগে থেকেই দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসুকে একাধিকবার নোটিশ পাঠিয়েছিল ইডি। তবে পরপর তিনবার হাজিরা এড়িয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, ভোট চলাকালীন তাঁকে হাজিরা দিতে হবে না, তবে নির্বাচন মিটে গেলেই তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই শুক্রবার সকালে নিজের আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছান তিনি।
‘কোনও নথি আনিনি, কোর্টের অর্ডার এনেছি’
এদিন ইডি দপ্তরে ঢোকার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন মন্ত্রী। কোনো নথি সঙ্গে এনেছেন কি না, তা জানতে চাওয়া হলে সুজিত বসু জানান: “কোনও নথি আনতে বলেনি, কোর্টের অর্ডার নিয়ে এসেছি। কেন বারবার নোটিশ পাঠানো হচ্ছে তা আমার জানা নেই। বাকি কথা পরে বলব।” উল্লেখ্য, এর আগে সুজিত বসু দাবি করেছিলেন যে, এই মামলায় সিবিআই ইতিমধ্যেই চার্জশিট জমা দিয়েছে এবং সেখানে তাঁর নাম নেই। তা সত্ত্বেও কেন ইডি তাঁকে বারবার ডাকছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।
তদন্তের প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালে পুর-নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে সুজিত বসুর লেকটাউনের বাড়ি, সল্টলেকের অফিস এবং তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুর রেস্তোরাঁতেও ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সে সময় মন্ত্রীর স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাকেও দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। ইডি সূত্রে খবর, আজ সাক্ষী হিসেবে তাঁকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। ভোটের ফল প্রকাশের ঠিক আগে দমকলমন্ত্রীর এই হাজিরা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। একদিকে যখন তৃণমূল একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে সরব হয়েছে, অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, আইন আইনের পথে চলছে। এখন দেখার, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সুজিত বসু সাংবাদিকদের সামনে কী বয়ান দেন।
