এক্সিট পোল উড়িয়ে তোপ মমতার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বুথ ফেরত সমীক্ষা বা ‘এক্সিট পোল’-কে সরাসরি নস্যাৎ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, সত্য ধামাচাপা দিয়ে শেয়ার বাজারে ধস নামা আটকাতেই নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহরা সংবাদমাধ্যমকে দিয়ে এই মিথ্যা ফলাফল দেখাতে বাধ্য করেছেন। শুক্রবার একটি ফেসবুক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল এবার ২২৬ থেকে ২৩০টি আসন নিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় ফিরছে।
‘বিজেপি অফিসের নির্দেশে সমীক্ষা’
এক্সিট পোলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁর কথায়, “কাল বেলা ১টা ৮ মিনিট নাগাদ আমি খবর পাই যে বিজেপি অফিস থেকে সংবাদমাধ্যমগুলিকে ফোর্সফুলি (জোর করে) বলে দেওয়া হয়েছে যে এটাই তোমাদের দেখাতে হবে। সত্যিটা দেখানো যাবে না। কারণ আসল সত্যিটা দেখালে শেয়ার বাজারে ধস নামত।” তৃণমূল নেত্রীর মতে, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটেও একইভাবে ভুল সমীক্ষা দেখানো হয়েছিল যা বাস্তবে মেলেনি।
কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার বার্তা
ভোট মিটতেই এক্সিট পোলের ফল দেখে তৃণমূল কর্মীদের একাংশের মধ্যে যে মনমরা ভাব তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতেই এদিন আসরে নামেন নেত্রী। মমতা বলেন:
-
কর্মীদের প্রতি আশ্বাস: “অতীতেও এক্সিট পোল মেলেনি, এবারও মিলবে না। কর্মীদের মনোবল ভাঙতেই বিজেপির এই চক্রান্ত।”
-
এজেন্টহীন বিজেপি: নেত্রীর দাবি, বিজেপি হাজার হাজার বুথে কোনও এজেন্ট দিতে পারেনি, গণনাকেন্দ্রের টেবিলেও তাদের লোক থাকবে না। শুধু কর্মীদের চাঙ্গা রাখতেই এই ভুয়া সমীক্ষার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
-
আসন সংখ্যা: মমতা দৃঢ়ভাবে জানান, “আমরা ২২৬ তো ক্রস করবই, সংখ্যাটা ২৩০ অবধি পৌঁছে যেতে পারে।”
শাহের নির্দেশে ‘অত্যাচার’-এর অভিযোগ
ভোটপর্বে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ফের সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “অমিত শাহর নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী ভয়ানক অত্যাচার করেছে। একজন মারা গিয়েছেন, মহিলাদের ওপর হামলা হয়েছে। বেহালা-সহ বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মীদের ধরে ধরে মারা হয়েছে।” তিনি কর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “বিজেপির কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। ৪ মে পর্যন্ত ধৈর্য ধরুন।”
ভোটের ফল প্রকাশের আগে মমতার এই ভিডিও বার্তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিল। এক্সিট পোল না কি মমতার ভবিষ্যৎবাণী— ৪ মে ইভিএম খোলার পর বাংলার মসনদে কে বসবেন, এখন সেটাই দেখার।
