বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে গোর্খা সমস্যার সমাধান, প্রতিশ্রুতি অমিত শাহের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে গোর্খা সমস্যার সমাধান হবে বলে প্রতিশ্রুতি অমিত শাহের। এতদিন ধরে তারা যেসব দাবি করেছে যে তার ভিত্তিতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি বিজেপি ছাড়া এই সমস্যার সমাধান কেউ করতে পারবে না ।
প্রসঙ্গত ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময় থেকেই গোর্খাদের সমস্যার সমাধানের আশ্রয় দিয়ে আসছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা । বাস্তবে সেই সমস্যার এখনো পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। গত লোকসভা ভোটে ও এই নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল বিজেপির নেতাদের। তবে ভোট বাক্সে তার প্রভাব পড়েনি। দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির প্রার্থী রাজু বিস্তা । এবার বিধানসভা ভোটের প্রচারেও গোর্খাদের সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । আজ মঙ্গলবার দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং এর সুকন্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভা ছিল। সেখানে তিনি বলেন ” রাজ্যের ৪ ই মে ভোটের ফলাফল বেরোবে । তাতে বিজেপির বড় জয় হতে চলেছে । তারপরেই দার্জিলিঙে আসবো । গোর্খাদের সমস্যার সমাধান করব । বিজেপি সরকার গড়ার পরে ৬ ই মে এমন সিদ্ধান্ত নেব যাতে গোর্খাদের সকলের মুখে হাসি ফোটে” ।
গত লোকসভা ভোটের পর পাহাড়ে সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছে কেন্দ্র। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস পঙ্কজকুমার সিংকে। এ নিয়ে গত বছর তুঙ্গে পৌঁছেছিল কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্ব। শাহের অভিযোগ, ‘গোর্খাদের সমস্যার সমাধানে আমরা তিন বার মিটিং ডেকেছিলাম। কিন্তু দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) একবারও প্রতিনিধি পাঠাননি। তাই আমরা একজন মধ্যস্থতাকারী বসিয়েছি।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ‘মধ্যস্থতাকারী রিপোর্ট তৈরি করবেন পাহাড়ের সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হবে, যা গোর্খারা এত দিন ধরে চেয়ে এসেছেন।’
কেন্দ্র পাহাড়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের পরেই বেশ কয়েক বার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তাঁর অভিযোগ ছিল, গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) এলাকার প্রশাসন, শান্তিরক্ষার বিষয় সরাসরি রাজ্য সরকারের আওতাভুক্ত। কিন্তু রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই একতরফা ভাবে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের অন্যতম ভিত্তি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় আঘাত। তবে মমতার এই চিঠির পরেও, শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেনি।
