আজকের দিনেবাংলার আয়না

বর্তমান ও প্রাক্তন প্রেমিকের হাতে পরপর গণধর্ষণের শিকার নাবালিকা, ধৃত ৭

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কাটোয়া: সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানানো ভয়াবহতা। বর্তমান প্রেমিকের নির্দেশমতো প্রাক্তনকে চড় মারার মাশুল দিতে হলো এক নাবালিকাকে। অভিযোগ, এর জেরে প্রথমে প্রাক্তন প্রেমিক এবং পরে বর্তমান প্রেমিক ও তাদের বন্ধুদের দ্বারা পরপর দু’বার গণধর্ষণের শিকার হলো দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার এই রোমহর্ষক ঘটনায় এক নাবালকসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 প্রতিহিংসা

পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা কিশোরীর সঙ্গে আগে রবিন রাজবংশী নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিচ্ছেদের পর সম্প্রতি সুদীপ্ত দেবনাথ নামে অন্য এক যুবকের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

  • বুধবার বিকেলে সুদীপ্ত ও ওই কিশোরী মদ্যপান করছিল।

  • সুদীপ্ত মেয়েটিকে চ্যালেঞ্জ জানায়, সে যদি তাকে ভালোবাসে তবে যেন প্রাক্তন প্রেমিক রবিনকে চড় মারে।

  • রবিনকে ডেকে পাঠিয়ে সুদীপ্তর সামনেই তাকে চড় মারে ওই কিশোরী। অপমানে ফুঁসতে ফুঁসতে সেখান থেকে চলে যায় রবিন।

নারকীয় অত্যাচার

তদন্তকারীরা কিশোরীর বয়ান ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার যে ভয়ানক বিবরণ পেয়েছেন তা হল:

১. প্রথম আক্রমণ (প্রাক্তন প্রেমিকের বদলা): চড় খাওয়ার কিছুক্ষণ পর রবিন তার দুই বন্ধুকে নিয়ে ফিরে আসে। অভিযোগ, সুদীপ্ত তখন নেশায় আচ্ছন্ন। রবিন ও তার দুই বন্ধু মিলে কিশোরীকে নদীর বাঁধের ধারে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে অচৈতন্য অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

২. দ্বিতীয় আক্রমণ (বর্তমান প্রেমিকের নৃশংসতা): নেশার ঘোর কাটলে সুদীপ্ত তার বন্ধুদের নিয়ে প্রেমিকার খোঁজ শুরু করে। নদীর বাঁধে নগ্ন ও অচৈতন্য অবস্থায় কিশোরীকে পড়ে থাকতে দেখে তাকে বাঁচানোর বদলে নেশাগ্রস্ত সুদীপ্ত ও তার দুই বন্ধু ফের ওই কিশোরীর ওপর নারকীয় অত্যাচার চালায়। সঙ্গে থাকা এক নাবালক অবশ্য দূরে দাঁড়িয়ে ছিল বলে দাবি করেছে।

আইনি পদক্ষেপ

ব্যবসায়ী বাবা মেয়ের খোঁজ না পেয়ে কাটোয়ার একটি ইঁটভাটার পরিত্যক্ত ঘর থেকে রাত ১০টা নাগাদ অচৈতন্য অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করেন। জ্ঞান ফেরার পর সবটুকু জানায় নির্যাতিতা।

  • মামলা: পুলিশ গণধর্ষণ ও পকসো  আইনে মামলা দায়ের করেছে।

  • গ্রেপ্তার: রবিন রাজবংশী ও সুদীপ্ত দেবনাথসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

  • আদালত: ধৃতদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানানো হলেও আদালত তাদের দু’দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

এই নৃশংস ঘটনায় স্তম্ভিত কাটোয়াবাসী। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত চার্জশিট পেশ করে অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *