আজকের দিনেতিলোত্তমা

অফিস টাইমে ফের মেট্রো বিভ্রাট

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ফের সপ্তাহের কাজের দিনে মেট্রো বিভ্রাটের শিকার নিত্যযাত্রীরা। শুক্রবার সকালে অটোমেটিক সিগন্যালিং ব্যবস্থার যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে উত্তর ২৪ পরগনার হলুদ লাইনে (জয়হিন্দ/এয়ারপোর্ট থেকে নোয়াপাড়া) পরিষেবা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অফিস টাইমে এই বিভ্রাটের জেরে চরম নাকাল হতে হয় কয়েক হাজার যাত্রীকে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

মেট্রো রেল সূত্রে খবর, শুক্রবার সকাল ১০টা ১৪ মিনিট নাগাদ জয়হিন্দ (এয়ারপোর্ট) স্টেশনে আচমকা অটোমেটিক সিগন্যালিং ব্যবস্থায় ত্রুটি ধরা পড়ে। সুরক্ষার খাতিরে তড়িঘড়ি লাইনে থাকা রেকগুলি ফাঁকা করে দেওয়া হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন মেট্রোর উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়াররা। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পরেও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।

ম্যানুয়ালি চলছে রেক, ধীর গতিতে পরিষেবা

স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বিকল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ‘ম্যানুয়ালি’ বা হাতে চালিত পদ্ধতিতে মেট্রো চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এতে পরিষেবার গতি অনেকটাই কমে গিয়েছে।

  • খুব ধীর গতিতে মেট্রো চলাচল করছে।

  • স্টেশনে স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে ট্রেন।

  • স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ব্যবধানে মিলছে রেক।

যাত্রীদের ক্ষোভ

গত বছরের অগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই রুটের উদ্বোধন করেছিলেন। দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছনোর আশায় বহু মানুষ এখন এই লাইনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই এমন যান্ত্রিক বিভ্রাটে ক্ষুব্ধ নিত্যযাত্রীরা। এক যাত্রী বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “অফিস যাওয়ার সময় এই সমস্যা প্রতিদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্লু লাইনের (দক্ষিণেশ্বর-কবি সুভাষ) মতো এবার কি হলুদ লাইনেও এই একই যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে?”

ব্লু লাইনে পরিষেবা স্বাভাবিক

হলুদ লাইনে বিপর্যয় চললেও কলকাতা মেট্রোর লাইফলাইন অর্থাৎ ব্লু লাইনে (দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম) পরিষেবা শুক্রবার স্বাভাবিক রয়েছে বলেই মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে হলুদ লাইনের সমস্যা কখন পুরোপুরি মিটবে এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

বর্তমানে ইঞ্জিনিয়াররা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সিগন্যালিং পয়েন্ট মেরামতির কাজ চালাচ্ছেন। তবে অফিস ফেরতা ভিড়ের আগে পরিষেবা স্বাভাবিক না হলে ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *