দেশে জ্বালানি সমস্যা নেই, বড় দাবি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা একের পর এক সংকটের ধাক্কা সামলানোর যথেষ্ট সখি রয়েছে ভারতের । বড় দাবি করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন । তিনি বলেন এই মুহূর্তে দেশে জ্বালানি তেল, এলপিজি সহ কোন সংকট নেই ।গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর দাবি, বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা একের পর এক সঙ্কটের ধাক্কা সামলানোর মতো যথেষ্ট শক্তি রয়েছে ভারতীয় অর্থনীতির । শুধু তাই নয়, সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও জানিয়েছেন, দেশে এলপিজি–সহ জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আশু কোনও সঙ্কট নেই। দেশে ইতিমধ্যেই জ্বালানি সরবরাহ শুরু করা গিয়েছে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে। ঘরোয়া স্তরে উৎপাদনও ইতিমধ্যে ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বাড়তি চাহিদা মেটানোর জন্য।
তার বক্তব্য রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) জোগান নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে অর্থমন্ত্রী এ দিন একগুচ্ছ পদক্ষেপের নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। তিনি জানান, বিদেশি নির্ভরতা ও যুদ্ধের ঝুঁকি কমাতে ভারত ইতিমধ্যেই দেশে এলপিজি-র উৎপাদন প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রোপেন এবং বিউটেন গ্যাসকে রান্নার গ্যাসের উৎপাদনে ব্যবহার করেই এই সাফল্য মিলেছে বলে তিনি দাবি করেন।
দেশে এই পরিস্থিতিতে গিগ ওয়ারকারদের ওপর প্রভাব পড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় শহরের এক ডেলিভারি কর্মীর দৈনিক আয় অর্ধেকেরও বেশি কমে গিয়েছে। প্রতিদিনের আয়ের বড় অংশই এখন খরচ হয়ে যাচ্ছে পেট্রলের পিছনে। ফলে সামান্য দাম বাড়লেই জীবিকা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়ে ওঠা গিগ অর্থনীতির কর্মীরাও এই সঙ্কটে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে সার, অ্যালুমিনিয়াম থেকে শুরু করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত হিলিয়ামের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বহু রাজ্যে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর মিলছে, বিশেষত ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এর ফলে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে ভারতের প্রায় ১৮.৪৮ লক্ষ কোটি টাকার রপ্তানি এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ উপার্জন হয়ে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দুই ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা ভারতীয় অর্থনীতিকে কিছুটা চাপে ফেলতে পারে এবং ভারতীয় মুদ্রার দরের উপরে চাপ বাড়াতে পারে।
