আগামী ১৮ জুন নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে রাজ্য বিধানসভার হাই-ভোল্টেজ বাজেট অধিবেশন। শুক্রবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে এই দিনক্ষণ ঘোষণা করেন নবনিযুক্ত স্পিকার রথীন্দ্র বোস। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এটিই হতে চলেছে নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশন। ফলে এই বাজেট ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে কৌতূহল ও নজর তুঙ্গে।
এদিকে, বাজেট অধিবেশনের আবহেই শুক্রবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের উদ্দেশে এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান, বিরোধীরা অবশ্যই সরকারের কাজের বিরোধিতা করুন, তবে সেই বিরোধিতা যেন সুস্থ ও ‘গঠনমূলক’ হয়।
শুরু পূর্ণাঙ্গ বাজেটের প্রস্তুতি, নবান্নকে বিশেষ নির্দেশ
চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচন থাকার কারণে নিয়ম মেনে গত ফেব্রুয়ারি মাসে চার মাসের জন্য ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ বা অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেছিল বিগত সরকার। যার মেয়াদ এবার শেষের মুখে। এই পরিস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করার জন্য ইতিমধ্যেই নবান্নের তরফে প্রতিটি সরকারি দপ্তরকে কোমর বেঁধে নেমে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন শাসক দলের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুত প্রকল্পগুলির রূপরেখাকে মাথায় রেখেই এবারের বাজেট পরিকল্পনা সাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঋণে লাগাম, পরিকাঠামোয় জোর: নয়া অর্থনৈতিক নীতি?
নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই রাজ্যের অর্থনৈতিক দিশা কোন দিকে ঘুরতে চলেছে, তার একটি প্রাথমিক আভাস মিলেছে প্রশাসনিক সূত্রে। জানা গেছে:
-
ব্যয়ের সামঞ্জস্য: রাজ্যের আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রেখেই এবার বাজেট তৈরি করতে চায় নতুন সরকার।
-
ঋণের রাশ: বিগত দিনে রাজ্যের ঘাড়ে চেপে থাকা ঋণের বোঝায় লাগাম টানার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
-
স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি: অনুৎপাদক খরচে রাশ টেনে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও মূলধনী খাতে ব্যয় বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে রাজ্যে স্থায়ী সম্পদ তৈরি করা যায়।
ইতিমধ্যেই অর্থ দপ্তরের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে একপ্রস্থ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সেরেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।
ক্ষমতায় আসার পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার আমজনতার জন্য কেমন চমক রাখে এবং রাজ্যের আর্থিক হাল ফেরাতে কী কী কড়া পদক্ষেপ নেয়—আগামী ১৮ জুন সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে গোটা বাংলা।
