বামেদের প্রথম প্রার্থী তালিকায় নেই সৃজন, দায়-ই কী প্রতীক উর?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: সম্প্রতি বাম শিবিরের পরিচিত মুখ প্রতীক উর রহমানের তৃণমূলে যোগদান রাজ্য রাজনীতিতে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। প্রতীক উর ও সৃজন ভট্টাচার্যের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা কারও অজানা নয়। প্রতীককে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করা সৃজনও কি তবে দলবদল করবেন? এই জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই বামেদের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় সৃজনের নাম না থাকা সেই গুঞ্জনে ঘি ঢেলেছে। যাদবপুর তো দূরস্ত, কোনও আসনেই আপাতত তাঁর নাম নেই।
তবে কি বন্ধুর দলত্যাগের কারণেই সৃজনের ওপর থেকে ভরসা হারিয়েছে সিপিএম? নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও সমীকরণ? এই বিষয়ে এবার নিজেই মুখ খুললেন এসএফআই-এর সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য।
প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকা নিয়ে সৃজন অত্যন্ত স্পষ্ট ও কৌশলী জবাব দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ”সবাইকে ভোটে দাঁড়াতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা আছে কি? সংগঠন আমাকে নির্দিষ্ট যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করব। নির্বাচনের কাজে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, আমি সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করব বামপন্থী প্রার্থীদের জেতানোর।” সূত্রের খবর, দলবদলের জল্পনার সঙ্গে প্রার্থী না হওয়ার কোনও যোগসূত্র নেই। বরং সৃজন নিজেই মাস দু-তিন আগে রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন যে তিনি এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান না। এর পেছনে তাঁর যুক্তি মূলত নৈতিক-
সংগঠনের দায়িত্ব: সৃজন বর্তমানে এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ফলে তাঁকে সারা দেশ জুড়ে সংগঠনের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়।
সময়ের অভাব: নির্বাচনের প্রার্থী হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে যে পরিমাণ সময় দেওয়া প্রয়োজন, সংগঠনের কাজের চাপে তা দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
নৈতিক অবস্থান: সৃজনের মতে, আংশিক সময় দিয়ে প্রার্থী হওয়া অনৈতিক। দায়সারাভাবে লড়াই না করে বরং সংগঠনের কাজে এবং প্রার্থীদের জেতানোর লড়াইয়ে তিনি বেশি মনোযোগী হতে চান।
প্রতীক উর রহমানের দলত্যাগ যে সৃজনকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করেছিল, তা তাঁর অভিব্যক্তিতেই স্পষ্ট ছিল। তবে বারবার তিনি জানিয়েছেন যে, তাঁর আদর্শ ‘বামপন্থা’ এবং তিনি দলেই থাকছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও রাজনৈতিক আদর্শকে সৃজন আলাদা রাখতে জানেন—আর প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর সেই ম্যাচিউরিটিরই পরিচয়।
তালিকায় নাম না থাকলেও, নির্বাচনী প্রচারের ময়দানে যে সৃজন ভট্টাচার্যকে সামনের সারিতেই দেখা যাবে, তা তাঁর কথা থেকেই পরিষ্কার।
