আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়না

​বাংলায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা: দুই দফায় ভোট, নামছে ২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটদান নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলতে প্রায় আড়াই লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ধাপে ধাপে মোট আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে আসবে, যার মধ্যে ৪৮০ কোম্পানি ইতিমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে।
​নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এবার বাংলার ভোট হবে দুই দফায় এবং প্রতি দফায় গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার কোম্পানি বাহিনী উপস্থিত থাকবে। নির্বাচনের খুঁটিনাটি নজরদারিতে থাকছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া:
আকাশপথে নজরদারি: সংবেদনশীল এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
থ্রি-লেয়ার সিকিউরিটি: প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। বুথের ভেতর ও বাইরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সামলাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
​ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম: সিইও এবং ডিইও অফিসে ২৪ ঘণ্টা সচল কন্ট্রোল রুম থাকবে, যেখান থেকে সরাসরি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে।

​শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কমিশন ইতিমধ্যেই কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে।
অস্ত্র উদ্ধার: আগামী তিন দিনের মধ্যে সমস্ত বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার এবং দাগী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
​বাজেয়াপ্ত সম্পদ: গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত নগদ টাকাসহ প্রায় ১১২ কোটি টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
শনাক্তকরণ: ভোটকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ছবিসহ হার্ড ও সফট কপি সংরক্ষণ করা হবে যাতে দ্রুত শনাক্তকরণ সম্ভব হয়।
পর্যবেক্ষক: প্রতি জেলায় ও কমিশনারেট এলাকায় ২ জন করে পুলিশ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হবে।
​”নির্বাচনের মূল লক্ষ্য হলো আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা। কোনো ভোটারকে ভয় দেখানো বা বাধা দিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” — নির্বাচন কমিশন
​বয়স্ক ও বিশেষ সক্ষমদের জন্য বিশেষ সুবিধা ভোটদানের হার বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে কমিশন বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
​৮৫ বছরের বেশি বয়সের প্রবীণ নাগরিক এবং ৪০ শতাংশের বেশি প্রতিবন্ধকতাযুক্ত ভোটাররা বাড়িতে বসেই ভোট দিতে পারবেন।  এই সুবিধা পেতে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের আগেভাগে ১২-ডি ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে।
​​ভোটের সময় ভুয়ো তথ্য বা ফেক নিউজ ছড়িয়ে যাতে অশান্তি না বাড়ে, তার জন্য ইন্টারনেটে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। কোনো বুথে রি-পোলিং বা পুনরায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হলে কমিশন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *