ভোটার তালিকা থেকে নাম উধাও ৩৬ হাজার মতুয়ার, ভোট ঘোষণার পর বনগাঁয় তুঙ্গে ক্ষোভ ও আতঙ্ক
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বনগাঁ: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠতেই মতুয়া মহলে আছড়ে পড়ল আশঙ্কার ঢেউ। জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করার পর দেখা যাচ্ছে, বনগাঁ মহকুমার অন্তত ৩৬ হাজার মানুষের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষের নাম বর্তমানে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক মানুষের সিংহভাগই মতুয়া উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় এবং অনিশ্চয়তার মেঘ না কাটায় বনগাঁর উদ্বাস্তু শিবিরে এখন শুধুই হাহাকার আর ক্ষোভ।
ভোটের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা। অনেকেই আশা করেছিলেন, নির্বাচনের আগে হয়তো কোনো সুরাহা হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় ভেঙে পড়েছেন মিলন হাওলাদারের মতো সাধারণ ভোটাররা। তিনি ক্ষোভের সুরে জানান, “গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছিলাম। কিন্তু এবার চূড়ান্ত তালিকায় নাম নেই। ভেবেছিলাম এবারও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারব, কিন্তু তা আর হলো না।” একই সুরে মতুয়া গোসাঁই মনোরঞ্জন ব্যাপারী বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল ৬ নম্বর ফর্ম ফিলাপ করলেই নাম উঠে যাবে। এখন দেখছি পুরোটাই ভাঁওতা। নির্বাচন এসে গেল অথচ নাম উঠল না।” মতুয়া ভক্তদের বড় একটি অংশ সরাসরি আঙুল তুলছেন বিজেপি নেতৃত্বের দিকে। তাঁদের দাবি, তালিকা প্রকাশের পর বিজেপি নেতারা আশ্বাস দিয়েছিলেন যে সবার নাম না ওঠা পর্যন্ত ভোট হবে না। অথচ সেই আশ্বাসের কোনো প্রতিফলন ছাড়াই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় তাঁরা প্রতারিত বোধ করছেন। তাঁদের সাফ হুঁশিয়ারি—এই ‘মিথ্যাচারে’র উপযুক্ত জবাব ব্যালট বক্সেই মিলবে।
এই ইস্যুতে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসের অভিযোগ, “বিজেপি চক্রান্ত করে মতুয়াদের নাম বাদ দিয়েছে। ওরা মতুয়াদের শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে। মানুষ এবার তার যোগ্য জবাব দেবে।” অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের বক্তব্যে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তিনি জানান, যাঁদের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে, তাঁদের সবার নাম হয়তো উঠবে না। সেক্ষেত্রে তাঁদের সিএএ -এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিয়ে আগামীতে ভোট দিতে হবে। বিজেপির এই অবস্থানকেই হাতিয়ার করেছে ঘাসফুল শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার সতর্ক করে বলেছেন যে, সিএএ-তে আবেদন করার অর্থই হলো নিজেকে ‘বিদেশি’ বলে স্বীকার করে নেওয়া। তৃণমূলের দাবি, উদ্বাস্তুরা এদেশের আদি নাগরিক, তাই সিএএ-র মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার টোপ আসলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।
