ডবল সিলিন্ডারের কানেকশন আপাতত বন্ধ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য বড় খবর। যে সমস্ত গ্রাহকদের কাছে বর্তমানে একটি সিলিন্ডার রয়েছে , তারা চাইলেই এখন আর দ্বিতীয় সিলিন্ডারের আবেদন করতে পারবেন না। এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের ওপর এই বিষয়ে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তেল সংস্থাগুলোর তরফে সম্প্রতি এই নির্দেশ এসেছে বলে খবর। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি থাকলেও গ্যাসের জোগানে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেকারণেই এই নির্দেশ বলে জানা গিয়েছে।
কোনো গ্রাহক যদি বর্তমানে তার একক সিলিন্ডার কানেকশনটিকে ডবল সিলিন্ডারে রূপান্তর করতে চান, তবে ডিস্ট্রিবিউটররা সেই আবেদন গ্রহণ করবেন না। কেন এই সিদ্ধান্ত? মূলত বাজারে সিলিন্ডারের জোগান স্বাভাবিক রাখা এবং নতুন কানেকশনের চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তেল সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ডিস্ট্রিবিউটরদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কোনো গ্রাহককে দ্বিতীয় সিলিন্ডার ইস্যু করা যাবে না। যারা আগে থেকেই ডবল সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন, তাদের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। তবে যারা নতুন করে দ্বিতীয় সিলিন্ডার নেওয়ার কথা ভাবছিলেন, তাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি এড়াতে মজুত গ্যাসের সঠিক বণ্টনের লক্ষ্যেই এই কড়াকড়ি।
গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের চলাচল ব্যাহত হলে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ ভাবছেন জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশই এই পথ দিয়ে আসে। ভারতে ঘরে ঘরে ব্যবহৃত এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থাই বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে বলে মনে করা হচ্ছে। অপরিশোধিত তেল বা এলএনজির তুলনায় এলপিজির উৎস সীমিত এবং এর মজুতও তুলনামূলকভাবে কম। মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। এর অধিকাংশই উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আসে এবং প্রায় সব জাহাজই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে পৌঁছয়। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০ দিনের এলপিজি মজুত রয়েছে।
নির্ধারিত জাহাজ দেরিতে পৌঁছলে জোগানে সমস্যা দেখা দিতে পারে এসবই নানা আতঙ্কে মানুষ আগেভাগে সিলিন্ডার বুকিং শুরু করে দিচ্ছেন, যার জেরে এই মজুত সিলিন্ডার দ্রুত কমে যেতে পারে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন শহরের ডিস্ট্রিবিউটররা জানিয়েছেন, অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত সিলিন্ডার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তাই অংখ্য মজুত না করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। এদিকে সমাজমাধ্যমে তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে নানা গুজব ছড়াচ্ছে। এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তেল সংস্থাগুলো পুনরায় এই পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
