বলাগড়ে গণপিটুনি কাণ্ডে কড়া রায়, ২ জনের যাবজ্জীবন, ২৩ জনের ৭ বছর জেল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বলাগড়ে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি ও পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বড় রায় দিল চুঁচুড়ার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট। দীর্ঘ ৯ বছরের বিচারপ্রক্রিয়ার পর ২৫ জন অভিযুক্তের মধ্যে দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ২৩ জনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। এই রায়কে প্রশাসনের বড় সাফল্য বলেই উল্লেখ করেছেন সরকারি আইনজীবী।
২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি বলাগড়ের আসানপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, কল্যাণীর এক অধ্যাপকের স্ত্রী, তাঁর মেয়ে এবং তাঁদের গাড়ির চালক পরিচারিকার খোঁজে ওই গ্রামে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের ‘ছেলে ধরা’ সন্দেহে ঘিরে ধরে মারধর করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, গাড়িতে আগুন লাগিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টাও করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদের উপরও চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা। তিরবিদ্ধ হন এক সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং আহত হন ১১ জন পুলিশকর্মী।
এই ঘটনায় দ্রুত এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ। মোট ২৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে রায় ঘোষণা করে চুঁচুড়া আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট।
সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ (খুনের চেষ্টা), ৩৩৩ (সরকারি কর্মীর উপর হামলা), ১৪৯ (অবৈধ সমাবেশ), ৩২৬ (গুরুতর জখম) ও ৪৩৫ (অগ্নিসংযোগ) সহ একাধিক ধারায় অভিযুক্ত গোপাল রায় ও পূর্ণিমা মালিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৩ জনকে সাত বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
শুক্রবার কামারকুণ্ডুতে হুগলি গ্রামীণ পুলিশের এসপি অফিসে সাংবাদিক বৈঠক করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সরকার ও সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সরকার জানান, আইন নিজের পথে চলেছে এবং এই রায় সমাজের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে গুজবের ভিত্তিতে আইন হাতে তুলে নিলে কঠোর শাস্তি অনিবার্য। সরকারি আইনজীবীর কথায়, “এই রায় প্রশাসনের এক বড় জয়।”
