আজকের দিনেভারত

রাস্তায় রক্তাক্ত পড়ে তরুণ, কেউ এগোল না! দিল্লির দুর্ঘটনায় মৃত্যু সাহিলের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- চলতি বছরের শুরুতেই পথদুর্ঘটনায় আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র সরকার। কিন্তু দুর্ঘটনার পর আহতকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার মানুষ না থাকলে সেই চিকিৎসা মিলবে কীভাবে দিল্লির এক মর্মান্তিক ঘটনা সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিল।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর দিল্লির দ্বারকা এলাকায় লালা বাহাদুর শাস্ত্রী কলেজের সামনে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন ২৩ বছরের যুবক সাহিল ধানেস্রা। একটি এসইউভি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি ট্যাক্সি, তারপর একটি বাইকে ধাক্কা মারে। ট্যাক্সিচালক আহত হলেও বাইক আরোহী সাহিল মারাত্মকভাবে জখম হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রক্তাক্ত অবস্থায় প্রায় দশ মিনিটের বেশি সময় রাস্তায় পড়ে ছিলেন সাহিল। তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গাড়িটি চালাচ্ছিল এক নাবালক। গাড়ির বৈধ কাগজপত্রও ছিল না। মৃতের মা ইনা মাকানের অভিযোগ, ওই গাড়ির বিরুদ্ধে আগেই ১৩ বার জরিমানা করা হয়েছিল বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্য। তবুও অভিযুক্ত জামিন পেয়ে গেছে বলে দাবি তাঁর।
ঘটনার দিন দুপুরে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ইনা। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন রাস্তায় পড়ে রয়েছে তাঁর রক্তাক্ত ছেলে। তাঁর অভিযোগ, সামনে অ্যাম্বুল্যান্স থাকলেও কেউ হাসপাতালে নিয়ে যেতে চায়নি। শেষ পর্যন্ত নিজেই গাড়ির ব্যবস্থা করে ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানান, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

এই অমানবিক ঘটনার পর শোকে ভেঙে পড়া মা সকলের কাছে ন্যায়বিচারের আর্জি জানিয়েছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন মানুষ যদি মানুষকে না বাঁচায়, তবে আইন বা প্রকল্প কাকে বাঁচাবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *