আজকের দিনেবাংলার আয়না

পিকআপ ভ্যান উল্টে মৃত ১, আহত বহু

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- খড়্গপুরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। সোমবার সকালে খড়্গপুরের কলাইকুন্ডা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি পিকআপ ভ্যান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে গাড়ির টায়ার ফেটে যাওয়ার কথাই প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেদিনীপুর সদর ব্লকের বনপুরা এলাকার বাসিন্দা শেখ আল্লা রাখা (৪০) সহ মোট প্রায় ২০ থেকে ২২ জন যাত্রী ওই পিকআপ ভ্যানে করে ঝাড়গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। সকালের দিকে তাঁরা যাত্রা শুরু করেছিলেন। গাড়িটিতে যাত্রী সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল বলেও জানা যাচ্ছে।
পিকআপ ভ্যানটি যখন খড়্গপুরের কলাইকুন্ডা এলাকার ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় আচমকা গাড়ির পিছনের একটি টায়ার ফেটে যায়। টায়ার ফেটে যাওয়ার ফলে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর পরই ভ্যানটি রাস্তার উপর ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দুর্ঘটনায় ভ্যানে থাকা বহু যাত্রী রাস্তায় ছিটকে পড়েন। কেউ কেউ গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয় মানুষজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আহতদের উদ্ধারে হাত লাগান। একই সঙ্গে খবর দেওয়া হয় খড়্গপুর গ্রামীণ থানায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা শেখ আল্লা রাখাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি আহতদের চিকিৎসা চলছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হলেও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর পুলিশ পিকআপ ভ্যানটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। কী কারণে টায়ার ফেটে গেল, গাড়ির যান্ত্রিক কোনও ত্রুটি ছিল কি না, গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয়েছিল কিনা এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর খড়্গপুর গ্রামীণের তৃণমূল বিধায়ক দিনেন রায় আহতদের এবং মৃতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় ওই যাত্রীরা মুরগির হাট থেকে ফিরছিলেন।

এই দুর্ঘটনায় একদিকে যেমন একটি পরিবারের সব কিছু মুহূর্তে বদলে গেল, তেমনই গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে লড়াই চালাচ্ছেন আরও কয়েকজন। আবারও প্রশ্ন উঠছে, পণ্যবাহী গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং রাস্তায় যানবাহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *