আজকের দিনেবিশ্ব

‘ভারত-চিন সম্পর্কে নাক গলাবে না রুশ’, ত্রিকোণ বন্ধুত্বে ভারসাম্যের বার্তা পুতিনের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- ভারত-চিনের ‘সংবেদনশীল’ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনওভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না রাশিয়া। বৃহস্পতিবার বিশ্বের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একইসঙ্গে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করে সীমান্ত সংঘাত শান্তিপূর্ণভাবে মেটানোর ইঙ্গিতও দিলেন তিনি।

পুতিন বলেন, “ভারত ও চিনের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক। এতে হস্তক্ষেপ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।” তবে তিনি জানান, মস্কো নয়াদিল্লি ও বেজিং, দুই বন্ধুর সঙ্গেই সর্বদা যোগাযোগ রাখে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছিল। কিন্তু গত এক বছরে একাধিক পদক্ষেপে বরফ গলেছে। গত আগস্টে তিয়ানজিনে মোদি-শি বৈঠকে দুই রাষ্ট্রনেতাই জানিয়েছিলেন, “আমরা উন্নয়নের অংশীদার, একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নই। মতপার্থক্য মানেই বিবাদ নয়।” ত্রিকোণ সমীকরণ নিয়ে পুতিনের সাফ কথা, “রাশিয়া ও ভারতের সম্পর্ক চিনকে বিচলিত করে না। একইভাবে চিনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে ভারতও বিচলিত নয়।” এই ভারসাম্যকে তিনি ‘স্বাভাবিক’ বলেই ব্যাখ্যা করেন। পাকিস্তান প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন পুতিন। অপারেশন সিঁদুরের সময় চিনের ‘ছায়াযুদ্ধ’ নিয়ে জল্পনার মধ্যে তিনি বলেন, “ভারত-পাক সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আমরা অবগত। কিন্তু পাকিস্তান চিনের নিয়ন্ত্রণাধীন, এমনটা আমরা মনে করি না। পাকিস্তান বিশাল দেশ, বহু দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আছে।” তবে চিনা অস্ত্র নিয়ে ভারতের উদ্বেগকেও মান্যতা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। বলেন, “ইসলামাবাদের প্রায় ৮০ শতাংশ সামরিক সরঞ্জামই চিনের তৈরি। ফলে পাকিস্তানের কাছে চিন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের উদ্বেগ স্বাভাবিক।”

ভারত-চিন-রাশিয়া ত্রিকোণ বন্ধুত্বে কেউ কারও ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ নয়, বরং প্রত্যেকেই নিজের স্বার্থে ভারসাম্য বজায় রাখছে। পুতিনের এই বার্তা ট্রাম্পের শুল্ক-যুদ্ধ ও বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতির মাঝে নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *