টাকার বিনিময়ে সরকারি বিদ্যালয়ে ছাত্রী ভর্তি, অভিযুক্ত ১
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- টাকার বিনিময়ে গার্লস স্কুলের ছাত্রী ভর্তি নেওয়ার অভিযোগ। চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগটি উঠে এসেছে বর্ধমানের সরকারি গার্লস স্কুল থেকে । ঘটনায় অভিযুক্ত স্কুলেরই একজন সিকিউরিটি গার্ড অমিত চোঙদার । গতকাল ২রা ফেব্রুয়ারি রাতে তাকে গ্রেফতার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ ।
স্থানীয় সূত্র মারফত জানা যায়, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি ভর্তির জন্য বর্ধমান মিউনিসিপালিটি গার্লস স্কুলের ভর্তি হতে চাওয়া ছাত্রীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মাথাপিছু প্রায় কুড়ি হাজার টাকা নেওয়া হতো।স্কুল কর্তৃপক্ষের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশ করেই টাকা তুলত ওই ব্যাক্তি । ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চারদিক থেকে শুরু হয়েছে নিন্দার ঝড় । এবং তার সাথে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা ।
প্রি প্রাইমারিতে ভর্তির জন্য প্রত্যেক ছাত্রীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মাথাপিছু প্রায় কুড়ি হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল। ঘটনাটি চলছিল দীর্ঘদিন ধরে । প্রকাশ্যে আসতেই ওই সিকিউরিটি গার্ড অমিত চোঙদারকে গ্রেফতার করে স্থানীয় বর্ধমান থানার পুলিশ । একার দ্বারা তার এই কাণ্ড ঘটানো সম্ভব নয় সে কথা সহজেই বোঝা যায়। স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ এর সঙ্গে যুক্ত ছিল স্কুল প্রশাসনের বড় অংশ । সিকিউরিটি গার্ডকে সামনে রেখে চলছিল ওই টাকা তোলার প্রক্রিয়া। গতকাল সোমবার স্কুলের সামনে ওই অভিযুক্ত সিকিউরিটি গার্ডকে আটক করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিভাবকদের একাংশ । ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি সেখানে উপস্থিত হয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ এবং নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এই চক্রের সঙ্গে এই বিদ্যালয়ের কারা কারা যুক্ত তার তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে ।বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি স্বরাজ ঘোষ বলেন ” আমরা চাই এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে অপরাধীদের ধরা হোক” । স্থানীয় বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন ” আগে কলেজে ভর্তির জন্য মোটা অংকের টাকা নিচ্ছিল তৃণমূল, এখন স্কুলে ভর্তি নেওয়ার জন্য টাকা নেওয়া শুরু করেছে তারা” ।
পুলিশি তদন্তের মুখে অভিযুক্ত ওই সিকিউরিটি গার্ড জানায় ” বেতন কম হওয়ার কারণেই ওই কান্ড ঘটিয়েছি আমি, আমার সঙ্গে আর কোন ব্যক্তির যোগ নেই আমি একা ” । ধৃত ওই সিকিউরিটি গার্ড এর বক্তব্য নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ কোন অভিযুক্তকে আড়াল করার উদ্দেশ্য আছে কিনা ঐ ব্যক্তির সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত এই রাজ্যে আগে শিক্ষক নিয়োগ সহ একাধিক ইস্যুতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল ।কিন্তু এই সরকারি স্কুলে ভর্তির নামে এই টাকা তোলার অভিযোগ কে কেন্দ্র করে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলো ।
