আজকের দিনেতিলোত্তমা

৫.৫ কম্পনে দুলল কলকাতা, আতঙ্ক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- শুক্রবার দুপুরে আচমকা জোরাল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলা। দুপুর ১টা ২২ মিনিট নাগাদ শুরু হওয়া কম্পন প্রায় ৪৫ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল বলে জানা গিয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৫। কম্পনের উৎসস্থল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা হলেও তার প্রভাব তীব্রভাবে অনুভূত হয় পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। আচমকা মাটি দুলতে শুরু করতেই বহুতল আবাসন থেকে শুরু করে অফিস, স্কুল—সব জায়গাতেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। বহু মানুষ নিরাপত্তার খাতিরে ঘর-বাড়ি, অফিস ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী হিঙ্গলগঞ্জ এলাকায় কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশি। বরুণহাট রামেশ্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে কর্মরত কর্মচারীরা হঠাৎ ভবন কেঁপে উঠতেই কাজ ফেলে বাইরে ছুটে যান। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সবাই খোলা জায়গায় জড়ো হন। একই ব্লকের বাঁকড়া ডোবর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন কম্পন অনুভূত হতেই পড়ুয়াদের মধ্যে হুলস্থূল পড়ে যায়। শিক্ষকরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে শিশুদের স্কুলের মাঠে নিয়ে যান। এক ছাত্র জানায়, প্রথমে বেঞ্চ কাঁপতে শুরু করে, তারপর পুরো ভবন দুলছে বলে মনে হয়। ভয় পেয়ে অনেকেই কেঁদে ফেলে।

উত্তর ২৪ পরগনারই মিনাখান এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বাড়ি ভেঙে পড়ার খবর মিলেছে। স্থানীয়রা জানান, কম্পনের সময়েই বাড়ির একটি অংশ ধসে পড়ে। যদিও সেখানে কেউ কাজ করছিলেন না বলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে। প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও কম্পনের জেরে আতঙ্ক ছড়ায়। ক্যানিং মহকুমাশাসকের দফতরে কর্মীরা আচমকা মাথা ঘোরা অনুভব করেন। পরে বুঝতে পারেন, ভূমিকম্পের কম্পনেই দুলছিল ভবন। সঙ্গে সঙ্গে সবাই বাইরে বেরিয়ে আসেন। সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন স্কুলেও একই চিত্র দেখা যায়—শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বহু জায়গায় মানুষ খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে ফোনে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন।
কম্পনের প্রভাব পড়ে হাওড়া,হুগলী জেলা এবং পূর্ব মেদিনীপুর-এও। হুগলির ডানকুনি পৌরসভার অফিসে কাজ চলাকালীন আচমকা কাঁপুনি শুরু হতেই কর্মচারীরা তড়িঘড়ি বাইরে বেরিয়ে আসেন। পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকাতেও বহু বাসিন্দা কম্পন টের পান। কোথাও কোথাও বাড়ির দেওয়ালে চির ধরার অভিযোগ উঠেছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানির খবর মেলেনি।

ভূমিকম্পের পর প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেও নরম মাটি ও নদীবেষ্টিত অঞ্চলের কারণে কম্পনের প্রভাব তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়েছে। দুপুরের ব্যস্ত সময়ে এই কম্পন ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কের মাত্রা ছিল তুঙ্গে। অনেকেই দীর্ঘক্ষণ বাড়ির ভিতরে ফিরতে সাহস পাননি। পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক হলেও দিনের এই আকস্মিক কম্পন রাজ্যবাসীর মনে আতঙ্কের ছাপ রেখে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *