আজকের দিনেভারত

কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে বিশিষ্ট সেবা পদক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- আজ ৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবস। এই প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় দেশবাসীর সামনে সামরিক অভিযানের প্রতিটি দিক স্পষ্ট ও দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরে যিনি সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব এবং নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, সেই কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে বিশিষ্ট সেবা পদকে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্রে এই সম্মান ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।

সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ কর্মজীবনে কর্নেল সোফিয়া কুরেশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও কমান্ড দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন। কঠিন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বারবার প্রশংসিত হয়েছে। এই সমস্ত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে বিশিষ্ট সেবা পদকে ভূষিত করা হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
অপারেশন সিঁদুরে নেতৃত্বের ভূমিকা

‘অপারেশন সিঁদুর’ ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত-অভিযান। এই অভিযানের সময় কর্নেল সোফিয়া কুরেশি দেশবাসীর সামনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে অংশ নেন এবং স্পষ্ট ভাষায় জানান—কীভাবে নির্ভুল পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শত্রুপক্ষের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযানের প্রতিটি ধাপের পেছনের যুক্তি, কৌশলগত প্রয়োজন এবং প্রমাণ-সহ ব্যাখ্যা করে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন। তাঁর শান্ত অথচ দৃঢ় উপস্থাপনা অভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও জোরদার করে।

একজন নারী সেনা আধিকারিকের কণ্ঠে সামরিক অভিযানের সফলতার বিবরণ দেশজুড়ে সৃষ্টি করেছিল আলাদা গর্বের আবহ। লিঙ্গভিত্তিক ধারণাকে ছাপিয়ে কর্নেল সোফিয়ার নেতৃত্ব ফের একবার প্রমাণ করেছে দায়িত্ব ও দক্ষতার নিরিখে ভারতীয় সেনায় নারী-পুরুষের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ নেই। তাঁর এই উপস্থিতি তরুণ প্রজন্মের বহু মেয়ের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।

২০১৬ সালে প্রথমবার জাতীয় স্তরে আলোচনায় আসেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি। সে বছর ১৮টি দেশের প্রতিনিধিদের সামনে ভারতের এক আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়ায় নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ইতিহাস গড়েন। সেই অভিযানে তাঁর কৌশলগত দক্ষতা ও নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়। সেই সময় থেকেই তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে একজন নির্ভরযোগ্য ও অভিজ্ঞ আধিকারিক হিসেবে পরিচিতি পান।

প্রসঙ্গত, ২৫ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে গ্যালান্ট্রি ও ডিস্টিংগুইশড সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডসের তালিকা প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে দেওয়া হচ্ছে—
২টি কীর্তি চক্র
১০টি শৌর্য চক্র
৪৪টি সেনা পদক
১৯টি পরম বিশিষ্ট সেবা পদক
৩৫টি অতি বিশিষ্ট সেবা পদক
৭টি যুদ্ধ সেবা পদক
এছাড়াও বিভিন্ন বড় সামরিক ও উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ৮১ জনকে ‘মেনশন-ইন-ডিসপ্যাচেস’-এ সম্মানিত করা হয়েছে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে কর্নেল সোফিয়া কুরেশির এই সম্মান শুধু একজন আধিকারিকের ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, বরং এটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রের প্রতিফলন। দেশের সুরক্ষায় যাঁরা নীরবে কাজ করে যান, তাঁদের প্রতি এই সম্মান নতুন করে আস্থা ও শ্রদ্ধা জাগাল বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *