শীতের দাপট কমছে, বসন্তের আবহে দক্ষিণবঙ্গ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মাঘের শেষ লগ্নে এসে কার্যত বিদায় নিচ্ছে জাঁকিয়ে শীত। সকাল ও সন্ধ্যায় হালকা শীতের আমেজ থাকলেও বেলা বাড়তেই উধাও হচ্ছে ঠান্ডার অনুভূতি। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মরসুমে আর জাঁকিয়ে শীত ফেরার সম্ভাবনা নেই। বরং আগামী কয়েক দিনে ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হবে তাপমাত্রা।
কেন বাড়ছে তাপমাত্রা
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ভারতে একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢোকার পাশাপাশি দক্ষিণ পাঞ্জাবের উপর সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত এবং সেখান থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থান পর্যন্ত বিস্তৃত অক্ষরেখার প্রভাবেই তাপমাত্রা বাড়ছে। এই জোড়া সিস্টেমের প্রভাবে বুধবারের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
যদিও আপাতত তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি বা কিছুটা নিচেই থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী সাত দিন আবহাওয়া মূলত শুষ্কই থাকবে। বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে সকালের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার দাপট থাকবে একাধিক জেলায়।
কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে—কলকাতা, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায়। দৃশ্যমানতা থাকতে পারে ৯৯৯ মিটার থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলায় কুয়াশার দাপট বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলির জন্য সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে—কলকাতায় ১৪–১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পশ্চিমের জেলাগুলিতে ৯–১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে পারদ
দিনের বেলায় রোদ উঠলেই শীতের আমেজ অনেকটাই কমে যাবে।
উত্তরবঙ্গে কুয়াশার প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি থাকবে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুর জেলায় কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে মাত্র ৫০ মিটার পর্যন্ত।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের মতে, আগামী সোমবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে ঘন কুয়াশার সতর্কতা বজায় থাকবে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে দার্জিলিং ও উত্তর দিনাজপুর জেলায়। জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারেও ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী ৫–৬ দিনে উত্তরবঙ্গে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার বিশেষ কোনও হেরফের হবে না। পার্বত্য দার্জিলিং অঞ্চলে তাপমাত্রা থাকবে ৩–৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সমতলের জেলাগুলিতে ১০–১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বত্রই আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে।
কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় ধীরে ধীরে বাড়ছে তাপমাত্রা। আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৩৯ থেকে ৯৩ শতাংশের মধ্যে।
আগামী কয়েকদিন কলকাতায় তাপমাত্রায় বড়সড় পরিবর্তন না হলেও এক-দু ডিগ্রি ওঠানামা করবে। সকালে হালকা ধোঁয়াশা বা কুয়াশা থাকতে পারে। দিনের বেলায় শীত প্রায় থাকবেই না, তবে সকাল ও সন্ধ্যায় হালকা ঠান্ডার অনুভূতি থাকবে।
আবহাওয়া দপ্তরের ইঙ্গিত, ৩১ জানুয়ারির পর থেকেই ধীরে ধীরে শীতের দাপট কমতে শুরু করবে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের পর কার্যত বিদায় নেবে চলতি মরসুমের শীত।
এদিকে ফের দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের পার্বত্য এলাকায়। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ ও মোজাফফরাবাদে। হিমাচল প্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
