আজকের দিনেভারত

Central Govt-Vande Mataram : ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে নতুন আইন ভাবছে কেন্দ্র !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- জাতীয় সঙ্গীতের মতোই সমমর্যাদা পেতে চলেছে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই দেশাত্মবোধক গানকে আরও বেশি সম্মান জানাতে উদ্যোগী হয়েছে মোদি সরকার। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নেতৃত্বে এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

কোন এক জনৈক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আলোচনা হয়, জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে যেসব নিয়ম ও আইনি বিধান রয়েছে, সেগুলি কি বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা যায় কি না। বন্দে মাতরম কখন, কোথায় এবং কীভাবে গাওয়া হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট নিয়ম তৈরি করা প্রয়োজন কিনা, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এখন জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো বাধ্যতামূলক। তা না করলে শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। বৈঠকে খতিয়ে দেখা হয়েছে, বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রেও এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চালু করা যায় কিনা।

১৮৭৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় বন্দে মাতরম। পরে ১৮৮২ সালে বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ গানটি স্থান পায়। ১৮৯৬ সালে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গান গেয়েছিলেন। এরপর থেকে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে পড়ে বন্দে মাতরম। বর্তমানে গানটির ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন চলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বন্দে মাতরম রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রেও এসেছে। সংসদে এই গানকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। অভিযোগ করা হয়েছে, ১৯৩৭ সালের কংগ্রেস অধিবেশনে গানটির কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা পরে দেশভাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির পালটা অভিযোগ তুলেছে।

সংবিধান অনুযায়ী বন্দে মাতরম জাতীয় স্তোত্র হিসেবে স্বীকৃত এবং মর্যাদাপূর্ণ। তবে এখনও পর্যন্ত এই গান গাওয়া বা পাঠের জন্য নির্দিষ্ট কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা বা শিষ্টাচার নেই। জাতীয় সঙ্গীত অবমাননায় মামলা হলেও বন্দে মাতরম অবমাননার ক্ষেত্রে তেমন কোনও শাস্তির বিধান নেই। এবার সেই দিকেই পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *