তিলোত্তমা

নারকেলডাঙায় গ্রেপ্তার স্বামী

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- কলকাতার নারকেলডাঙা থানা এলাকায় স্ত্রীকে কার্বলিক অ্যাসিড খাইয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত চলছে।

মৃত তরুণীর নাম প্রীতম কুমারী (২২)। তিনি বিহারের নালন্দা জেলার বাসিন্দা। ২০২২ সালে গণেশ দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দম্পতি নারকেলডাঙা থানা এলাকায় বসবাস করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর অ্যাসিডে গুরুতরভাবে আহত অবস্থায় প্রীতমকে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁর স্বামী গণেশ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানায়।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গণেশ দাবি করেন, ১৫ ডিসেম্বর তাঁর এক সহকর্মীর বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁর স্ত্রীকে ডাকা হয়নি। তবে প্রীতম জোরাজুরি করলে তাঁকে সঙ্গে নিয়েই অনুষ্ঠানে যান গণেশ। এর দু’দিন পরে, অর্থাৎ ১৭ ডিসেম্বর ওই সহকর্মীর বৌভাত অনুষ্ঠানেও যেতে চাইলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। সেই সময় একটি মোবাইল ফোন কেনার দাবিও করেন প্রীতম। গণেশের দাবি, ওই রাতেই তাঁর স্ত্রী নিজেই কার্বলিক অ্যাসিড খেয়ে নেন।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, গুরুতর অসুস্থতার কারণে প্রীতমের বয়ান নেওয়া সম্ভব হয়নি। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ৩০ ডিসেম্বর নীলরতন হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসার সময় তাঁর বাবা বিহার থেকে কলকাতায় এসেছিলেন। মৃত্যুর পরেও পরিবারের তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

মৃত্যুর পর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। চলতি মাসের ১৫ তারিখ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পান তদন্তকারী আধিকারিক। রিপোর্টে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানান, অ্যাসিড জাতীয় কোনও পদার্থে তরুণীর শরীরের ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পাশাপাশি ত্বক ও বাহ্যিক অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকের মত অনুযায়ী, জোর করে অ্যাসিড জাতীয় পদার্থ খাওয়ানো হয়েছিল।

এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৪(১) ধারা (ইচ্ছাকৃতভাবে অ্যাসিড জাতীয় পদার্থ প্রয়োগ) এবং ১০৩(১) ধারা (খুন) অনুযায়ী মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে মৃতার স্বামী গণেশ দাসকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *