আজকের দিনেতিলোত্তমা

KOLKATA HOTEL FIRE : ‘দাউদাউ আগুন সিঁড়িতে, মরেই যেতাম’, আতঙ্কের মুহূর্ত ভুলতে পারছেন না আবাসিকরা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা :- রাত তখন প্রায় পৌনে ২টো। ঘুমের মধ্যে আচমকা ধোঁয়ায় দমবন্ধ পরিস্থিতি (KOLKATA HOTEL FIRE)। নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ঘুপচি হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আবাসিকদের মধ্যে। প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে গিয়ে তাঁরা দেখেন, সিঁড়িতেও দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। কোনও মতে দমকল ও পুলিশের সাহায্যে উদ্ধার হলেও সেই ভয়াবহ রাতের স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁদের।

সংবাদমাধ্যমকে মহম্মদ আমিরুল ও ইজাজ আহমেদ নামে দুই আবাসিক জানান, তাঁরা চারতলার একটি ঘরে জানলা খোলা রেখে ঘুমোচ্ছিলেন।(KOLKATA HOTEL FIRE) হঠাৎ ধোঁয়ায় তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। জানলার কাছে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। আগুন লেগেছিল তিনতলায়। চারতলায় তখন আগুন না পৌঁছলেও ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তাঁরা পাশের ঘরের দরজায় ধাক্কা দিয়ে অন্য আবাসিকদের সতর্ক করেন। হোটেলের কর্মীদের ডাকাডাকি করেও সাড়া মেলেনি বলে তাঁদের অভিযোগ (KOLKATA HOTEL FIRE) । লিফট বন্ধ থাকায় সিঁড়ি দিয়েই নামার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। কিন্তু সিঁড়ির কাছে পৌঁছেই সামনে আসে আরও ভয়ঙ্কর দৃশ্য—সিঁড়িতেও তখন দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে।

আবাসিকদের কথায়, সেই মুহূর্তে তাঁদের মনে হয়েছিল, হয়তো আর ঘরে ফিরতে পারবেন না (KOLKATA HOTEL FIRE)। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে কেউ জানলার দিকে ছুটেছেন, কেউ আবার কোনওভাবে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন। এক আবাসিক জানান, ধোঁয়া দেখে আতঙ্কে একজন জানলা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।

শেষ পর্যন্ত দমকল ও পুলিশকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বহু আবাসিককে উদ্ধার করেন। আগুনের ঘটনায় ওই বিল্ডিং থেকে মোট প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আবাসিকদের অভিযোগ, নিউ মার্কেট এলাকার ওই বিল্ডিংয়ে একাধিক ছোট হোটেল রয়েছে। অনেক ঘরের আয়তন মাত্র ৮ ফুট বাই ৮ ফুট। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বেরিয়ে আসার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (KOLKATA HOTEL FIRE) পর আবাসিকদের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক এবং নিয়ম না মেনে হোটেল চালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে মালিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হোক। তাঁদের আশঙ্কা, অগ্নিনিরাপত্তার নিয়মকে উপেক্ষা করে ঘুপচি জায়গায় এভাবে হোটেল চলতে থাকলে ভবিষ্যতেও বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাঁদের কথায়, ‘‘মৃত্যুকে যেন খুব কাছ থেকে দেখলাম।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *