Independence Day : স্বাধীনতা দিবসে প্রথমবার লালকেল্লায় গাওয়া হবে বন্দেমাতরম !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি :- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেশাত্মবোধক গান ‘বন্দে মাতরম’ এই প্রথমবার লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হতে যাচ্ছে। গানটির ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর পাশাপাশি, এবারের অনুষ্ঠানে ‘যুব শক্তি’কে মূল বিষয়বস্তু হিসেবে রেখে দেশের তরুণ ও শিক্ষার্থী সমাজের অবদানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
* অনুষ্ঠানের প্রথায় বদল : প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং জানান, প্রতি বছরের প্রথা অনুযায়ী যেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ গাওয়া হতো, এবার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আগেই পরিবেশিত হবে ‘বন্দে মাতরম’ এবং পরবর্তীতে গাওয়া হবে জাতীয় সঙ্গীত। স্বাধীনতা সংগ্রামে এই গানের দীর্ঘস্থায়ী অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই নতুন নিয়ম।
* ‘ যুব শক্তি’র ওপর জোর : ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য রেখে এবারের অনুষ্ঠানের মূল থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘যুব শক্তি’। সম্প্রতিক সময়ে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তরুণ সমাজকে এই গুরুত্ব প্রদান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
* নতুন নির্দেশিকা ও বিল: সম্প্রতি সংসদে ‘বন্দে মাতরম’-এর অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে বিল পাস করেছে কেন্দ্র। নতুন নিয়মবিধি অনুযায়ী, সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান, স্কুল এবং পদ্ম পুরস্কারের মতো নাগরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে ‘জনগণমন’-এর পর ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবকই পরিবেশন করতে হবে (তবে সিনেমা হলে এটি বাধ্যতামূলক নয়)।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ১৮৭৫ সালে রচিত এই গানটি ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি প্রথম গেয়েছিলেন। পরবর্তীতে এই গানটিই ব্রিটিশ-বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল প্রেরণা হয়ে ওঠে।
লালকেল্লায় ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন এবং তরুণ সমাজকে মূল বিষয়বস্তু করার এই জোড়া পদক্ষেপ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের যুব সমাজের আকাক্সক্ষা ও ভিত্তিকে শক্ত করার একটি বার্তা বহন করছে।
